জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এরইমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছি। তবে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে- নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, হাজার হাজার ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার এবং আনুপাতিক হারে (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন হলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।
আজ শুক্রবার বিকেলে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে পৃথক ভোটার সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে ৭ বছর বিনা কারণে গ্রেফতার রেখে আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বাবার দাফনেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার শাসনকাল ছিল গুম, খুন, হত্যা, জুলুম-নির্যাতন, রাহাজানি ও ধর্ষণের সময়কাল। যেখানে বিরোধী দলের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কোনো সুযোগ ছিল না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতপ্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ফেসবুকে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু আবরার নন, শত শত বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এবারই মানুষ আবার মতপ্রকাশ, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। দুই হাজার শহিদ ও হাজার হাজার আহতের আত্মত্যাগে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হবে এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার ছাড়া এ স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোকের সময়েও ‘পতিত হাসিনার লোকজন’ সচিবালয়ে ঢুকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। অতীতেও বিচারিক ক্যু, সচিবালয়ে আগুন, আনসার কাণ্ডসহ নানা ঘটনায় অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দমন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোয় ন্যূনতম সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দেওয়া যাবে না- যেন দেশ এক ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে আরেক ফ্যাসিবাদের হাতে না যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মাস্টার রফিকুল ইসলাম এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. মকিত শেখ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদীসহ দলের বিভিন্ন নেতারা।














