৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতার কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে তাদের কারণ দর্শাও নোটিস দেওয়ায় নবগঠিত দলটি ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে যে গুঞ্জন ছড়ায়, তা উড়িয়ে দিয়ে নেতারা বলছেন, দল ভাঙার কোনো আশঙ্কাই নেই। বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু মতভেদ এবং অভ্যন্তরে কিছু সমস্যা থাকলেও তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দিন কক্সবাজার সফর করেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। তাদের এই আচরণ দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং বাইরে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে দল ভাঙছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ওই পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেন। কেন তারা গুরুত্বপূর্ণ দিনে অনুপস্থিত ছিলেন এবং সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। নোটিস পাওয়ার পর পাঁচ নেতা লিখিত জবাব দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব পোস্ট করে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জানতে পারি, আমাদের আন্দোলনের আহত এবং নেতৃত্বদানকারী অনেক ভাই-বোনকে এই অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমার কাছে শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক ব্যর্থতা বলেই মনে হয়েছে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। যেখানে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনকে, শহীদ ও আহতদের পরিবর্তে কিছু মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর কথা এবং মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে উপস্থিত থাকার কোনো ইচ্ছা বা প্রয়োজন আমি বোধ করিনি। কাজেই এর পরদিন ঢাকার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। উদ্দেশ্য ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বোঝার চেষ্টা করা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে চিন্তা করা। একই সঙ্গে এটি ছিল একটা অসম্পূর্ণ জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতি আমার নীরব প্রতিবাদ।’
এছাড়া ‘বিধিবহির্ভূত’ শোকজ দেওয়া এবং অতি উৎসাহী হয়ে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা কতটুকু রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচায়ক হয়েছে, সে বিষয়ে গভীরভাবে ভাবার অনুরোধ করে হাসনাত লিখেছেন, ‘আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং মনে করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার মাধ্যমেই আমাদের দল রাজনৈতিকভাবে আরও পরিণত হবে।’
অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব পোস্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে ভাবতে চেয়েছি গণঅভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে। আমি এটিকে কোনো অপরাধ মনে করি না, বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য এটি একটি দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।’
নেতৃবৃন্দের শো-কজের জবাবে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে বিভ্রান্তি কিছুটা প্রশমিত হলেও পুরোপুরি আস্থা ফিরে এসেছে এমন বলা এখনও সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলের মধ্যে কোনো অস্বস্তি নেই। শীর্ষ পাঁচ নেতা দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নোটিসের জবাবও দিয়েছেন। শুরু থেকেই বিভিন্ন মহল এনসিপি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তবে নেতাকর্মীরা সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’








