বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল “জাতীয় নাগরিক পার্টি” (এনসিপি)।
শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই দলের ১৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসযোগে ঢাকায় আসেন দলটির নেতাকর্মীরা। তার মধ্যে পিরোজপুর জেলা থেকে আসা নেতকার্মীরা সরকারিভাবে বাস রিকুইজিশনের মাধ্যমে ঢাকায় আসেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তোলেন।
তবে, নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় সরকারি বাস নিয়ে আসার বিষয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এমনকি পিরোজপুর জেলা প্রশাসন থেকে ওই বাসগুলোর কোনো খরচও বহন করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা অতিরঞ্জিত বলেও উল্লেখ করেছেন প্রেস সচিব।
শনিবার (১ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, “আমরা পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা পাঁচটি বাস রিকুইজিশন করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এই বাসগুলোর কোনো ধরনের পেট্রোলের খরচ, যাতায়াত খরচসহ কোনো খরচই ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “ডিসি আশরাফুল আলম জানিয়েছেন— বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের পিরোজপুর শাখা এবং নাগরিক কমিটি তাদের কাছে বাস রিকুইজিশনের জন্য জানিয়েছেন। এজন্য তারা ডিসির কাছে চিঠিও দিয়েছেন। এর সঙ্গে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন এবং নিহতদের পরিবার সবাই মিলে এসে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে এক প্রকার চাপে তারা পাঁচটি বাস রিকুইজিশন করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এই বাসগুলোর কোনো ধরনের পেট্রোলের খরচ, যাতায়াত খরচসহ কোনও খরচই ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে কোনও সম্পৃক্ততা ডিসি অফিসের ছিল না।”
প্রেস সচিব আরও বলেন, “আমরা দেখছি যে, এই ধরনের ঘটনা আরও কোথাও পুনরাবৃত্তি হয়েছে কি-না।”
তিনি আরও বলেন, “পিরোজপুরের পাঁচটি বাস রিকুইজিশন করা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ আসছে যে, পিরোজপুরের ডিসি অফিস এই কাজে সহায়তা করেছেন। এটার কিছু অভিযোগ আমাদের উদ্দেশ্যেও এসেছে যে, হয়তো অন্তর্বর্তী সরকার এই বাসগুলো রিকুইজিশন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। আমি এখানে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, অন্তর্বর্তী সরকারের এখানে কোনো ভুমিকা নেই।
শফিকুল বলেন, “এ বিষয়ে আমি মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা নাই। অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে— সব রাজনৈতিক দলের জন্য এই সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করছে। যাতে সুন্দর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সব দল অংশ্রগ্রহণ করতে পারে। এটা হচ্ছে আমাদের মূল দায়িত্ব। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা সমান। সেই জায়গা থেকে যা বলা হচ্ছে— সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত বলে আমরা মনে করি।”








