সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে ২০ হাজার টাকা, আর সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বর্তমানের মতোই বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে ঢাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট মাসিক আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার টাকা।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “খুব ভালো কিছু হচ্ছে। আমরা বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করেছি।”
গত বছরের ২৪ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পে কমিশন গঠন করে। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যদিও বর্তমান সরকারের সময়ে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমানের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হচ্ছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সব গ্রেডেই বর্তমান বেতন কাঠামোর তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তা পান ২২ হাজার টাকা, আর সচিব পর্যায়ে মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠছিল। মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে সরকার চলতি অর্থবছর থেকে বিশেষ সুবিধা ভাতা কার্যকর করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে। ফলে এ খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারি থেকেই মূল বেতন বা ভাতার একটি অংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই অর্থ সংস্থান রাখা হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “পে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ করছে। তবে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলাদা বাস্তবতা।”








