বজ্রপাতে দেশের তিন জেলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কিশোরগঞ্জে চারজন, ঝিনাইদহে দুইজন ও সুনামগঞ্জের একজন রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৬ মে) বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জ: পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন ছাত্রীসহ মোট চারজন মারা গেছেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরটেকী গ্রামে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তিন ছাত্রী মারা যায়।
তারা হলো- চরটেকী নামাপাড়ার ফকির বাড়ির জালাল উদ্দিনের মেয়ে ফারিয়া জান্নাত ইরিনা (১৫), একই বাড়ির বাদল মিয়ার মেয়ে আদ্রিতা ইসলাম প্রিয়া (১৫) ও একই এলাকার মো. বোরহান উদ্দিনের মেয়ে হিমা আক্তার বর্ষা (১৫)।
তিনজনই চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বেলা ১টার থেকে বিদ্যালয়ে তাদের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল।
চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা চলছে। মঙ্গলবার বেলা ১টায় ৯ম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ইরিনা, প্রিয়া ও বর্ষা বাড়ি থেকে স্কুলে আসছিলো। পথে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনজনই গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইরিনা ও প্রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর আহত বর্ষাকে কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে বর্ষা মারা যায়।
এদিকে দুপুরে জেলার মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর হাওরে গরু আনতে গিয়ে কটু মিয়া (৪০) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা গেছেন। তিনি চমকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে।
নিহতের প্রতিবেশী শহিদুজ্জামান শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কৃষক কটু মিয়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির পাশে হাওরে যান। এসময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
ঝিনাইদহ: মাঠে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিরাজুল ইসলাম গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী গ্রামের শাহাজ্জেল হোসেনের ছেলে। অলিয়ার রহমান মহারাজপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ দুটি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ: জেলার জামালগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বাকসার হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক জাকির হোসেন (৩৫) উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, হাওরে নিজের জমির ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








