কাতার বিশ্বকাপের পর আড়াই বছর কেটে গেছে, আরেকটি বিশ্বকাপ আসতে বছর দেড়েক বাকি। এখনো ব্রাজিল তাদের দল গুছিয়ে উঠতে পারেনি। দীর্ঘদিন কার্লো আনচেলত্তির জন্য অপেক্ষা করে স্থানীয় কোচ নিয়োগ দিয়েছিল ব্রাজিল। তাতে দলের অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় আবারও তারা আনচেলত্তির জন্য অপেক্ষা করছে। তবে ব্রাজিলিয়ানরা নাকি বিদেশি কোচ নিয়োগের পক্ষে নয়।
পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল ফুটবলের অবস্থা এখন করুণ। সর্বশেষ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার কাছে তারা ৪-১ গোলে হেরেছে। এরপর চাকরি গেছে কোচ দরিভাল জুনিয়রের। এখন ফের আনচেলত্তির জন্য অপেক্ষা করছে ব্রাজিল। দেশটির বিশ্বকাপজয়ী রাইটব্যাক কাফু মনে করেন, বিদেশি কোচের চেয়ে স্থানীয় কোচই ভালো সমাধান। কারণ, স্থানীয় কোচের অধীনেই ব্রাজিল একের পর এক বিশ্বকাপ জিতেছে।
ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের ভাষায়, ‘আনচেলত্তিকে কোচ করা হলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব। কিন্তু আমরা একমাত্র দল হিসেবে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছি বিদেশি কোচ ছাড়াই। আমাদের সব সময় দেশি কোচই ছিল, এটাই ব্যাপার। ব্যাপারটা এমন না যে একজন বিদেশি কোচের জাতীয় দলে আসা উচিত। কিন্তু আমি এই বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলিয়ান কোচের ওপরই বাজি ধরব।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে এই কিংবদন্তি ফুটবলার বলেন, ‘টুর্নামেন্টের এখন বছর দেড়েক বাকি। তাই একজন কোচকে আমি পরিকল্পনা তৈরির এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য দল গঠনের সুযোগ দিতে চাই। আমাদের বাস্তবতা হলো আমাদের কোন কোচ নেই, আর ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য আমাদের একজন পরামর্শদাতার বিশ্বকাপের আগে অল্প সময়ের জন্য রোজেরিও সেনি অথবা রেনাতো গাউচোকে কোচ করা যেতে পারে।’
আনচেলত্তির অধীনে এসি মিলানে খেলেছেন কাফু। এই খ্যাতিমান কোচের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আনচেলত্তি একজন অসাধারণ কোচ। এমনকি, তিনি শুধু একজন কোচই নন, মিলানে তিনি বাবা, বন্ধু এবং ভাইয়ের মতো ছিলেন। মাঠে এবং মাঠের বাইরে দুই জায়গাতেই। ম্যাচ এবং অনুশীলন সেশনগুলোর পাঠ কীভাবে করতে হয়, সেটাও তিনি জানেন। তিনি তাঁর খেলোয়াড়দের ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন। তিনি এমন কোচ, যিনি যেখানে গেছেন সেখানেই জিতেছেন। ফলে জাতীয় দলকে জেতার জন্য তিনি সহায়তা করতে পারবেন।’








