১৩টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকায় দক্ষিণী শহর রাফাতে স্থল আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে আরও সাহায্য পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সর্তক করা হয়েছে।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ।
জার্মানির সুডয়েচে জেইতুং সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিপিএ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া, প্রধান শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট গ্রুপ অফ সেভেন (জি৭)-এর অন্য সব সদস্যরা বুধবার চার পৃষ্ঠার চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজকে পাঠানো চিঠিতে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ইসরায়েলের অধীনে থাকা মিশরের সাথে রাফাহ ক্রসিং সহ সাহায্য সরবরাহের জন্য সমস্ত সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিয়ে গাজায় ধ্বংসাত্মক এবং ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কট নিরসনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিপিএ বলছে, চিঠিতে যে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেছেন: জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান এবং কানাডা, সেইসাথে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইডেন।
এদিকে রাফাহতে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনি শহরটি ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)।
বৃহস্পতিবার ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পূর্ব রাফাহ থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য সরে যাওয়ার আদেশ জারি করার একদিন পর গত ৬ মে থেকে প্রায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যার মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টাই রাফাহ ছেড়েছে প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি।’
জাতিসংঘের মতে, গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ শুরুর পর সীমান্ত শহরটির (রাফাহ) জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বেড়ে ১৫ লাখে পৌঁছেছিল। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজা উপত্যকার শেষ নিরাপদস্থল হিসেবে এই বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, যা গাজার মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ।
ইউএনআরডব্লিউএ আরও বলছে,‘ বাস্তুচ্যুত এই পরিবারগুলো ক্রমাগত ক্লান্তি, ক্ষুধা এবং ভয়ের সম্মুখীন। তাদের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতিই আমাদের একমাত্র আশা।’
আলজাজিরা বলছে, অভিযানকে সীমিত বলে বর্ণনা করা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাফায় আরও সৈন্য মোতায়েন করেছে। রাফাহ শহরের পূর্ব অংশে প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চলছে যেখানে হামাসের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আল-মাওয়াসির নিকটবর্তী রাফাহ-এর পশ্চিমাঞ্চলে লিফলেটও ফেলেছে, যাতে ইসরায়েলি বন্দিদের খুঁজে পেতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের যেকোনো ধরনের সাহায্যের আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে রাতে হামাস যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর সেটাকে উপযুক্ত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করে নেতানিয়াহু সরকার। একই সঙ্গে ইসরায়েল রাফায় বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মিশরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং- গাজায় প্রবেশের একমাত্র দখল করে নেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
এর আগে একই দিন এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা পোস্টার, ক্ষুদে বার্তা, ফোনকলের মাধ্যমে রাফায় অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল না করতে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে রাফাহর পূর্ব অংশে থাকা ফিলিস্তিনিদের অতি শিগগিরই একটি মানবিক এলাকায় চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
মূলত ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘হামাসের বাকি ব্যাটালিয়নগুলোকে’ পরাজিত করতে রাফাহ আক্রমণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।








