টাঙ্গাইলের মধুপুরে জাল দলিল মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর মিথ্যা মনগড়া প্রতিবেদনের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার দমপাড়া গ্রামের মৃত আ. রেজ্জাকের ছেলে মো. আ. ছালাম তার সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে পৈত্রিক বসতভিটা জাল দলিল করার অভিযোগে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করলে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান (বিপি নং– ৮৫১১১৩৫৯০৮) আদালতে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মৃত আ. রেজ্জাক তার জীবদ্দশায় ছেলে-মেয়েদের জায়গা-জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আ. রেজ্জাকের মৃত্যুর পর পিতায় দলিল করে দিয়েছেন বলে আ. ছালামের বসতভিটা উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে সৎ ভাই মো.জাহাঙ্গীর ও আনোয়ার।
আ. ছালাম জানান, যে জমি পিতায় নিজ হাতে ভাগ করে দিয়ে গেলেন সেই জমি কিভাবে তাদেরকে দলিল করে দিলেন। দলিলের কথা পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় না বলে, কেন নয় বছর পর প্রকাশ করলেন। দলিলে পিতার স্বাক্ষর গড়মিল থাকায় এবং চেনা স্বাক্ষী দলিলের কথা না জানায়, দলিলটি জাল মনে হওয়ায় আদালতে মামলা করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পিবিআই বিবাদীদের খুশি করার জন্যই মনগড়া মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন।
মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সোমবার মধুপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. আ. ছালাম। তিনি অভিযোগ করেন জাল দলিলের প্রমাণের জন্য আদালতে আমি যেসব প্রামাণ্য দলিল দাখিল করেছি তদন্ত কর্মকর্তা সেই দলিল যাচাই-বাছাই না করে বিবাদীদের দ্বারা আরও কিছু জাল দলিল তৈরি করে তার ভিত্তিতে প্রথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে আসামিদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করেছেন। বিতর্কিত দলিলে উল্লেখিত ১৬ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বরকে ১৭ ডিজিটে রূপান্তর করে পিবিআই। উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরকে প্রথমে পরিচিত এবং পরে জন্ম নিবন্ধন বলে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অপর দিকে দলিলের চেনা স্বাক্ষী মুসলিম উদ্দিনের বক্তব্যও তদন্ত প্রতিবেদনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এমনকি, দলিলের চেনা স্বাক্ষী মুসলিম উদ্দিন জানান, যে দলিলে আমাকে চেনা স্বাক্ষী দেখানো হয়েছে আমি সেই দলিল সম্পর্কে কিছুই জানিনা।
এ বিষয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান জানান, যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছি, বাদী ইচ্ছে করলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ছামদানী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম শহীদ, সাংবাদিক আনছার আলী, আমিনুল হক, নাজমুছ সাদাৎ নোমান, আলকামা শিকদার, আকবর আলী, রাজিবুল ইসলাম প্রমুখ।








