তাড়াশে সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের মালিক আবু হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি লাইসেন্স নিয়েছেন এবং গুদাম না থাকার পরেও বাড়িতে পণ্য মজুত করে বিক্রি করেছেন। পুলিশ মালপত্র জব্দ করার পর, অভিযুক্ত ডিলার পলাতক রয়েছেন।
জাহাঙ্গীরগাঁতী গ্রামের আবু হাসান তাঁর নামে মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্স ছাড়াও ছেলে মাসুদ রানার নামে ‘মেসার্স আবদুল্লাহ ট্রেডার্স’ এবং মেয়ের নামে ‘রুপসা ট্রেডার্স’ নামে তিনটি লাইসেন্স নেন। টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তাঁর কোনো গুদাম পাওয়া যায়নি। আবু হাসান এসব পণ্য নিজ বাড়িতে মজুত করে রাখেন এবং নামমাত্র বিতরণ করে অবশিষ্ট পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
৯ মার্চ জাহাঙ্গীরগাঁতী বাজারে পণ্য বিক্রির কথা ছিল, তবে আবু হাসান তা করেননি। এলাকাবাসী জানতে পারেন, পণ্য পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার পুল্লা গ্রামের একটি বাড়িতে কালোবাজারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মালপত্র জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকেই আবু হাসান পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগকারী মো. আব্দুল খালেক জানান, তিনি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় আবু হাসান তাঁকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি দ্রুত তিনটি লাইসেন্স বাতিলের দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত আবু হাসান মোবাইল ফোনে এই ঘটনা ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তবে মালপত্র জব্দ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
টিসিবি বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।







