ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।
এ অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেলের দামসহ চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার পরিকল্পনা রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য তার প্রস্তুতি আছে এবং সময় হলে সেটি নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট হবে। তবে তিনি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
সাম্প্রতিক হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে ওঠে বলে জানা গেছে। পরে কিছুটা কমে তা ১০০ ডলারের আশপাশে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই মূলত বাজারে এই চাপ তৈরি করেছে। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়।
দেশে জ্বালানির দাম বাড়া নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত নেমে আসতে পারে। তার মতে, সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে সামরিক অভিযানের গুরুত্ব বেশি।
এদিকে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও পরিণতি নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনা বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই অভিযান কেন শুরু করা হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অনেকটাই শেষের দিকে এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়ের চেয়েও এগিয়ে আছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি কীভাবে শেষ হবে, সে পরিকল্পনা এখনো তার নিজের ভাবনার মধ্যেই রয়েছে।
কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না। কিন্তু সোমবার তার বক্তব্যে দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত মিললেও পরে তিনি আবারও কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় সাফল্য বলা যেতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে অভিযান আরও এগিয়ে নিতে পারে এবং সে প্রস্তুতিও রয়েছে।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পারস্য উপসাগর বা আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তার ভাষায়, এমন আঘাত হানা হবে যাতে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করাই কঠিন হয়ে পড়ে।







