মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নেওয়ার পর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের বেশি, যা চলতি বছরের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৭৫ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কাই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ।
মঙ্গলবার ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে আঞ্চলিক উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের অন্যতম প্রধান উৎপাদক ইরাকও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক।
পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে এখন কার্যত অচল। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় একাধিক ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা কয়েক দিন ধরে নৌ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ মালিক ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক এসকর্ট ও বীমা সুবিধা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সংকটের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন সরবরাহকারী খুঁজছে। অন্যদিকে চীনের কিছু শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় আঞ্চলিক চাহিদাতেও পরিবর্তন আসছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল রফতানির পথ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা বাজারকে এখনো চাপে রেখেছে।








