শীতের সকাল। খেজুরের রস। এযেন এক অসাধারণ কম্বিনেশন। কিন্তু সবকিছুর অজান্তেই অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন নিপাহ ভাইরাসে। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে বিশ্বে শীর্ষে স্থানে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত ৩৪৭ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ২৪৯ জন এবং গত দুই বছরে আক্রান্তদের সবাই মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে শীতকালে এ রোগী পাওয়া গেলেও সম্প্রতি গরমকালেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
গত ২৮ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। নওগাঁর ওই নারীর স্বজনরা জানায়, অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিদিন কাঁচা খেজুরের রস পান করতেন। পরবর্তীতে নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেচিকিৎসকেরশরণাপন্ন হন।
নিপাহ ভাইরাস মূলত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় এর প্রধান বাহক। বাদুড়ের লালা কিংবা প্রস্রাব খেজুর রসে মিশে ছড়ায় নিপাহ ভাইরাস। এতে আক্রান্ত মানুষের শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর তথ্য বলছে, ২০০১ সালে মেহেরপুরে প্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এই রোগে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ২৪৯ জন। আর ২০২৪ সালে ৫ জন এবং ২০২৫ সালে আক্রান্ত চারজনের সবাই মারা গেছেন।
মেহেরপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম আবু সাঈদ বলেন, এটা অন্যান্য ভাইরাসের মতোই একটা রোগ। এতে জ্বর, মাথা ব্যথা, কাশি, খিচুনি হতে পারে, আর স্মৃতিশক্তিও কমে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে মেহেরপুরে নিপাহ ভাইরাস ধরা পড়েছিল। সে সময় আমাদের হিসাব মতে ৯ জন মারা গিয়েছিল।
দেশের ৩৫টি জেলায় এই ভাইরাস শনাক্ত হলেও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে রোগী তুলনামূলকভাবে বেশি। নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুর রস, বাদুড়ে খাওয়া ফল- যেমন: পেয়ারা, বড়ই, পেঁপে, কলা, আম পরিহারের পরামর্শ চিকিৎসকদের। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও সাবধান থাকার পরামর্শ তাদের।
রাজবাড়ী জেলার সিভিল সার্জন এস. এম. মাসুদ বলেন, এখন আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে কেউ যদি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে তার হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের (এনআইএইচ) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এরপর উল্লেখযোগ্য আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় মালয়েশিয়া, ভারত, ফিলিপিন্স ও সিঙ্গাপুর।







