রাউজানের সনাতনী ধর্মাবলম্বিদের বাড়িতে আগুন লাগানোর ধারাবাহিক ঘটনায় এবার আরো একটি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে অজ্ঞতনামা দুর্বৃত্তরা।
সোমবার দিবাগত রাতে সর্বশেষ আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের সুলতানপুর শীল পাড়ার সুলাল শীলের ঘরে।
স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে এই উপজেলার হিন্দু ও বড়ুয়া পাড়ায় যে কৌশলে দুর্বৃত্ত আগুন লাগিয়েছে একই কৌশল অবলম্বন করে পুড়িয়ে দিয়েছে সুলাল শীলের ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এক নারী সদস্য জানিয়েছে দুবৃত্তরা ঘরের দরজায় বাইর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে চতুর্দিকে আগুন দিয়ে কেরোসিন ছিটায়। কেরোসিনের গন্ধ নাকে আসলে ঘরে থাকা ৯ নারী পুরুষ ও শিশুদের সজাগ করে দিলে দেখেন ঘরের দুইদিক থেকে আগুন শিখা।
এই পরিস্থিতিতে দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করলে দেখেন বাইর থেকে দরজা বন্ধ। পরে সকলেই বিচলিত হয়ে সোর চিৎকার করতে করতে দা বটি দিয়ে দরজা কুপিয়ে ভেঙ্গে তারা প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় পরিবারটির ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা, জেলার সহকারি পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম। প্রশাসনের পক্ষে এসময় দুর্গতদের আর্থিক ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সহায়তা প্রদান করেন।
তারা বলেন, আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনে আওতায় আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে একই কায়দায় দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দিয়েছিল রাউজান সদর ইউনিয়নের কেউটিয়া বড়ুয়া পাড়ার সাধন বড়ুয়ার ঘর ও একই ইউনিয়নের কুলাল পাড়ার চার সহদরের ঘরে। এর পর আগুন দিয়েছিল পৌরসভার আট নাম্বর ওয়ার্ডে শীল পাড়ার তেজন্দ্র শীলের ঘরে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা এই কৌশল নিয়েছে। তারা সনাতন ধর্মবলম্বিদের টার্গেট করেছে।
সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, দুর্বৃত্তরা আগুনে পুড়িয়ে মারার যে কৌশল নিয়েছে সেই অবস্থা দেখে এলাকার মানুষ পরিবারের নারী শিশুদের নিয়ে একরকম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।








