বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২, ২ শাবান ১৪৪৭, শীতকাল

ভোটের তফসিল আজ, সন্ধ্যায় সিইসির ভাষণ

কলিকাল প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে আজ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে এ তফসিল ঘোষণা করবেন।

গতকাল বিকাল ৪টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার।

ভাষণ রেকর্ড করার পর সিইসি, অপর চার নির্বাচন কমিশনারকে নিজ কক্ষে ডেকে তফসিল অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইসি সচিব বলেন, বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং তফসিল ঘোষণা করবেন। সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট কবে হবে, সেই তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানা যাবে। আর নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, তফসিল থেকে ভোট সময়ের ব্যবধান হবে ৬০ দিন।

এদিকে তফসিলের আগে ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। রেওয়াজ অনুযায়ী, গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যায় এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর সিইসিসহ কমিশনের সদস্যরা বেরিয়ে আসেন। তবে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কথা বলেননি।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আপনারা জানেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, চারজন কমিশনার এবং আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, নির্বাচন পূর্বপ্রস্তুতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। রাষ্ট্রপতিকে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বিষয়গুলো আপডেট করেছেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ভোটার তালিকা।

এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, গত জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার তালিকার ক্রমসংযোজন এবং বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং তার সর্বশেষ অগ্রগতি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট- এ দুটি বিষয় আমরা কীভাবে করব, ব্যালট পেপারগুলো কীভাবে তৈরি হচ্ছে, ব্যালট পেপারের রং কী হবে, ব্যালট পেপার কীভাবে একজন ভোটারকে দেওয়া হবে, আমাদের মক ভোটিং অনুযায়ী একজন ভোটার কত সময় নিয়েছেন এবং গণনার পদ্ধতি- এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানোর পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা যে ভোটের সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়েছি- সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করেছি- এটিকেও তিনি যৌক্তিক বলেছেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে যে বিষয়টি জেনেছেন, তা হলো ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ এবং ‘ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’। এ বিষয়ে তার কৌতূহল এবং পদ্ধতিগত ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো শুনে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

তিনি সার্বিকভাবে আমাদের বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন এগিয়ে যাচ্ছে এবং একটি ভালো, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা ও সহানুভূতি দেওয়ার সুযোগ আছে, তিনি তার থেকে বেশি দেবেন, কম দেবেন না। এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ও গত ৭ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনে গণভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একই দিন অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। সে ক্ষেত্রে পোলিং বুথের সংখ্যা ও ভোট দেওয়ার সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, আমাদের যেহেতু দুটি নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে; আপনারা জানেন, আমরা একটা মক ভোটিং করেছিলাম- সেটার অভিজ্ঞতা এবং মাঠ পর্যায়ে যারা ইতিপূর্বে ভোট অনুষ্ঠান করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা আলোচনা ও বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ভোটের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সকালে আধা ঘণ্টা এবং বিকালে আধা ঘণ্টা। অর্থাৎ এখন ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দুটি করে ভোট দেওয়ার জায়গা বা গোপন কক্ষের (স্টাম্পিং সেন্টার) ব্যবস্থা থাকবে। গোপন কক্ষ বা ভোটিং বুথের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে সামান্য পরিমাণে বাজেট বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

এবার দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.