প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের জন্য ৫ বার মসজিদ থেকে আজান দেওয়া হয়। যা মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামী এক পদ্ধতি। এ ছাড়া সফরে বের হলে, মসজিদ নেই এমন কোনো জায়গায় নামাজ পড়লেও আজান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন নামাজের সময় হয়, ‘তোমাদের কেউ যেন আজান দেয় তোমাদের বয়োজ্যষ্ঠ ব্যক্তি যেন ইমামতি করে’। (সুনানে আবু দাউদ)
৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নাতে মুআক্কাদা কেফায়া। অর্থাৎ কোনো মহল্লার মসজিদে আজান না হলে বা কেউ আজান না দিলে সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার জন্য সবাই গুনাহগার হবে। মসজিদ ছাড়া বাড়িতে বা অন্য কোথাও একাকী বা জামাতে নামাজ পড়লে আজান দেওয়া মুস্তাহাব।
আজান দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। মুআজ্জিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। বিভিন্ন হাদিসে আজান দেওয়ার প্রভূত ফজিলত ও সওয়াব বর্ণিত হয়েছে।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনির শেষ সীমা পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হয় এবং প্রত্যেক সজীব ও নির্জীব বস্তু তাকে সত্যায়ন করে। (মুসনাদে আহমদ)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সা’সাআহ (রহ.) বলেন, একদিন আবু সাইদ খুদরি (রা.) তাকে বললেন, তুমি তো ছাগল ও মরুভূমি ভালোবাসো। তুমি যখন তোমার ছাগল চরানোর কাজে বা মরুভূমিতে থাকবে আর নামাজের জন্য আজান দেবে, তখন উচ্চৈস্বরে আজান দিয়ো। কারণ মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানুষ, জিন ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কেয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। আমি এটা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে শুনেছি। (সহিহ বুখারি)
আরেকটি হাদিসে ১২ বছর আজান দেওয়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ১২ বছর আজান দেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। আর প্রতি দিনের আজানের বিনিময়ে তার জন্য ৬০ নেকি এবং প্রতি ইকামতের জন্য ৩০ নেকি লেখা হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
আজান ও ইকামত: অর্থ ও উচ্চারণসহ
اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়
اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ) ২ বার
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
حَيَّ عَلَي الصَّلوةِ (হাইয়্যা আলাস সালাহ) ২ বার
অর্থ: নামাজের দিকে এসো।
حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) ২ বার
অর্থ: কল্যাণের দিকে এসো।
اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
ফজরের আজানে ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার পর বলা হয়:
الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ (আস সালাতু খায়রুম মিনান নাওম) ২ বার
অর্থ: ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।
ইকামতের সময় ২ বার হাইয়া আলাল ফালাহ বলার পর বলা হয়:
قَدْ قَامَتِ الصَّلَوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ) ২ বার
অর্থ: নামাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে আজানের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এর পরিপূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব হাসিলের তাওফিক দান করুন। আমিন।








