বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, ১২ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

সম্পত্তির লোভেই প্রবাসী মনিরসহ স্ত্রী-সন্তান খুন!

কলিকাল প্রতিনিধি

ছবি : সংগৃহীত

মনির হোসেন (৪৫)। সৌদি প্রবাসী একজন বাংলাদেশি। প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে কেরানীগঞ্জে দুটি বাড়ি, আবাসন ও দূরপাল্লার বাসের ব্যবসাসহ গড়ে তোলেন বেশ কিছু সহায়-সম্পত্তি। একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন তিনি। ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসে হোটেলে থাকা অবস্থায় খাবারে বিষক্রিয়া হয়ে স্ত্রী ও ছেলেসহ মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন, স্ত্রী স্বপ্না ও ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈমকে নিয়ে ঢাকার আদ্ব-দীন হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসেন। ২৮ জুন (শনিবার) হাসপাতালে এলেও সিরিয়াল না পাওয়ায় চিকিৎসা করাতে না পেরে রাতে মগবাজারের ‘সুইট স্লিপ’ আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন।

সেদিন রাত ১০টার দিকে পাশের ভর্তা-ভাত হোটেল থেকে খাবার এনে খান তারা। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন, বমি করতে থাকেন। রাতেই তাদের আদ্ব-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৯ জুন রোববার সকালে স্ত্রী স্বপ্না, কিছুক্ষণ পর ছেলে নাঈম ও দুপুরে মনির নিজেও মারা যান।

এ মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। পরিবারের সদস্যদের দাবি, খাবারে বিষক্রিয়া ছিল। তারা মনে করছেন, মনিরের সম্পত্তির প্রতি লোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে খাবারে বিষ মেশানো হয়ে থাকতে পারে।

সন্দেহভাজন রয়েছে, এক. মনিরের চাচাতো চাচা রফিক বিকেলের খাবার এনেছিলেন। সেখানে কোনো ‘স্লো পয়জনিং’ ছিল কি না। কারণ কেরানীগঞ্জে মনিরের যে দুটি বাড়ি রয়েছে সেখানে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন রফিক। সম্পত্তির ওপর তার লোভ হতে পারে।

দুই. রাতে মনির নিজেই হোটেল থেকে খাবার এনে খেয়েছিলেন। হোটেলের কেউ খাবারে বিষক্রিয়া মিশিয়েছিল কি না?

তিন. সন্ধ্যা থেকে খাবার খাওয়ার আগ পর্যন্ত মনির হোটেলের বাইরে কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করেন। তারা কোনোভাবে এ মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত কি না। অর্থাৎ তাদের সঙ্গে মনিরের কোনো লেনদেন ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে স্ত্রী-সন্তানসহ মনিরের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে।

পুলিশের রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট হলেও কে, কখন, কিভাবে ও কেন বিষ মেশালো—সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, আবাসিক হোটেল ও খাবার সরবরাহকারী হোটেল ঘিরে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনা চলছে। রফিকের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মনিরের চাচাতো ভাই জাকির জানান, তাদের পরিবার মনিরের সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানতেন না। এমনকি মনিরের বৃদ্ধ মা-বাবাও সম্পত্তির বিষয়ে অবগত ছিলেন না। শুধুমাত্র মনির, তার স্ত্রী ও কেয়ারটেকার রফিক জানতেন এসব বিষয়ে। ফলে রফিকের ভূমিকাকে ঘিরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মনির ছিলেন গ্রামবাসীর কাছে পরিচিত একজন দানশীল মানুষ। নিয়মিত দেশে আসতেন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করতেন। তার স্ত্রীও গরিবদের সহায়তায় সক্রিয় ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

শিক্ষামন্ত্রীর নতুন পিএস বিচারক ফারহান ইসতিয়াক
সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থীর গেজেট কাল
দাম বাড়ল সয়াবিন তেলের
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের নকশা উপস্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
বিরোধী দলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাজেটে চাপ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
৮ মে মুক্তি পাচ্ছে থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়কন’
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে ৩৩তম দেশ বাংলাদেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কমবে লোডশেডিং
আমরা মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার যুক্ত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন অবরোধ ডিঙিয়ে তেল রপ্তানি করছে ইরান
“রক্তদানে আমরা শেরপুর” সংগঠনের নকলা কমিটি গঠন: সভাপতি সোহাগ, সম্পাদক সজিব
মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
মা-বোনদের এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
রাশিয়া পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.