পুনরায় মুখোমুখি অবস্থানে পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান। কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অনেকেই বলছেন, দেশ দুটির সংঘাত যেন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
পর্যটন এলাকায় সংঘটিত ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে একাধিক কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। এর জবাবে ইসলামাবাদও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আকাশসীমা বন্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিতকরণ, বাণিজ্য স্থগিত এবং ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যত অকার্যকর করে তোলার মতো পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে পাকিস্তানি সেনারা ভারতের কয়েকটি পোস্ট লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জবাবে ভারতীয় সেনারাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তবে এই সংঘর্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্তমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা ২০১৯ সালের পুলওয়ামা-পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কাশ্মীর হামলার পর ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী না করলেও দেশটির সমর্থনপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করেছে। এর পরপরই ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে, ভিসা বাতিল করে এবং বাণিজ্য স্থগিত করে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান ভারতের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, ভারতীয় কূটনীতিকদের সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেয় এবং সকল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইসলামাবাদ বলছে, ভারতের পানি চুক্তি স্থগিতের হুমকি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের বিশেষজ্ঞ আসফান্দিয়ার মির মন্তব্য করেন, “দুই দেশের মধ্যে আগে যে গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল, এখন সেটিও নেই—যা সংকট নিরসনে অতীতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এর অনুপস্থিতি ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
সাবেক পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রী মুরতাজা সোলাঙ্গি নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেন, “যে কোনো আগ্রাসন হলে আমরা কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” পাকিস্তানের সাবেক তথ্যমন্ত্রী মুরতাজা সোলাঙ্গি আরও বলেন, “২০১৯ সালে যুদ্ধ এড়ানো গিয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক।”
বর্তমানে কাশ্মীর সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে বদলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের সতর্ক বার্তা








