সারাদেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় এক লাখেরও বেশি কম। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম।
২০২৪ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন, ২০২৩ সালে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন এবং ২০২২ সালে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন।
এদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ১৩টি কেন্দ্র বাতিল করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসব বাতিল কেন্দ্রের নাম ও কোড প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর ক্রমাগত ঝরে পড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত সাত বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২৮ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। স্বাভাবিক ধারায় পড়াশোনা চালিয়ে গেলে তাদের ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গত বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে দুই লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষার ধারা থেকে ছিটকে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক জানান, শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে— এক. উপবৃত্তির পরিমাণ কম হওয়ায় তা এখন আর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহ দিতে পারছে না; দুই. করোনার পর অনেক শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার বদলে হাফেজি বা কওমি ধারার মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ ধারায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ২৯১টি এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৪টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন, যার মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি, আর প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৬৩টি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন।
গত মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পক্ষ থেকে।
পরীক্ষা চলাকালে কঠোর নির্দেশনা
আগামীকাল বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষা হবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এবং পূর্ণ নম্বর ও সময়ে।
পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে এবং ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন কেউ চলাচল করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালীন ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরীক্ষার সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা সব বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারির ক্ষেত্রেও কেন্দ্রভেদে দূরত্ব কমবেশি হতে পারে, যা লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত থাকবে।








