সম্প্রতি যশোহরে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে ‘একদল খেয়েছে, আরেক দল খাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে’ বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে সিলেটে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে বক্তব্যকালে তিনি বলেছেন কোন দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি ওই বক্তব্য দেননি।
ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ‘আমি একটি ওয়াজের ময়দানে বলেছিলাম একদল খেয়ে গেছে আরেক একদল খাওয়ার জন্য রেডি। এই বক্তব্যটি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা ভাইয়েরা মন খারাপ করেছেন। আমি কারো মনে কষ্ট দিতে একথা বলি নাই। যা সত্যি তাই বলেছি।
তিনি বলেন, ‘এ কথার পর অনেকেই আমাকে রাজনীতির মাঠে আসার কথা বলেছে। তাদের উদ্দেশে বলব আমি কোরআনের খেদমতে কাজ করি। তাঁর বাহিরে আমি কোনো কিছু করতে চাই না।’
আজহারী আরো বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের শপথ নিতে হবে আমরা কেউ চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি ও দুর্নীতি করব না।
লাখ লাখ মুসলিম জনতার উপস্থিতিতে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে আনজুমানে খেদমতে কোরআন আয়োজিত দিনব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে রাত আটটার দিকে তাফসির শুরু করেন ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। শেষ করেন রাত সাড়ে নয়টার দিকে।
আজহারী তার বক্তব্যে বলেন ২৪ এর রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে আমাদের তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজ। এই তরুণদের হাতেই নিরাপদ আমাদের বাংলাদেশ, নিরাপদ লাল সবুজের পতাকা।
মাহফিলের শেষ দিনের পৃথক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের সভাপতি প্রফেসর মাওলানা সৈয়দ একরামুল হক ও জাতীয় ইমাম সমিতির মহাসচিব মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম।
শেষ দিনে মিজানুর রহমান আজহারী ছাড়াও তাফসীর পেশ করেন মুফতি আমির হামজা, আল্লামা ইসহাক আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, শায়খ হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ, অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী প্রমুখ।
মাহফিলে তিনি সিলেটের প্রখ্যাত আলেম ও পীর আল্লামা ফুলতলী (র.), আল্লামা গহরপুরী (র.), শায়খে কৌড়িয়া (র.) সহ প্রবীণ আলেমদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশী স্বেচ্ছাসেবক তাফসির মাহফিলে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।








