বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ১৯ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

গাজায় চলমান পোলিও টিকা কর্মসূচির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২৭

গাজায় চলমান পোলিও টিকা কর্মসূচির মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে অন্তত ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে এ হামলা চালায়।

স্থানীয় জনগণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাজার সব এলাকায় সংঘাত হয়েছে। উপত্যকার বৃহত্তম এবং ঐতিহাসিক শরণার্থী শিবির নুসেইরাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন দুই নারী এবং দু’জন শিশু। গাজার বৃহত্তম শহর গাজা সিটিতে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং বাকি নিহতদের কেউ খান ইউনিস, কেউ রাফা, কেউ বা জেইতুনের বাসিন্দা।

ইসরায়েলি বাহিনী এবং হামাসের মধ্যে গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর জন্য মাসের পর মাস ধরে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী ৩ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিসর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধাবসান ও শান্তি স্থাপনে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার প্রায় সবই ব্যর্থ। হামাস এবং ইসরায়েল— উভয়ই এ ব্যর্থতার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর গাজা উপত্যকার শিশুদের জন্য পোলিও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি বছর উপত্যকায় এই সময় শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়ানো হয় হয় এবং পুরো কর্মসূচি তত্ত্ববধানের দায়িত্বে থাকে জাতিসংঘের তিন অঙ্গসংগঠন— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা আনরোয়া। টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী এবং হামাস।

প্রাথমিক ভাবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ছিল টিকাদান কর্মসূচির মেয়াদ। তবে ৩ সেপ্টেম্বর গাজার সীমান্তবর্তী শহর রাফায় আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিরা জানান, সেখানকার অনেক শিশু টিকা পায়নি। তাই কর্মসূচির মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করে নাসীরুদ্দীনের বার্তা
জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে নাটক ‘জেড’ আসছে
‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ যুক্ত হচ্ছে আরও এক ‘ইডিয়ট’
কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ
সহকারী হত্যাকাণ্ডে শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূল
সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রভার সমালোচনা!
পশ্চিমবঙ্গে কি রাষ্ট্রপতির শাসন হতে যাচ্ছে?
‘কামব্যাক কমরেড’: মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে পাটওয়ারী
এবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের সুখবর
বন্যার পূর্বাভাস দেবে বাকৃবি গবেষকদের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তি
বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনে কমলো তেলের দাম
বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সেরা এডুকেশন হাব: শিক্ষামন্ত্রী
কারামুক্তির সাতদিন পর মারা গেলেন ছাত্রলীগ নেতা
নকলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: চিকিৎসা পেলো চার শতাধিক মানুষ
বিসিবির সভা আজ
ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার
ঈদে নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছেন পূজা চেরি
ক্যানচ্যাম বাংলাদেশ-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন
‘স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার’

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.