চীনে সফরের প্রথম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে জানিয়েছেন যে চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠককে ট্রাম্প ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শি জিনপিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা চীনের নেই।
এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীন তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে। তবে বৈঠকে সেই অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
তিনি আরও জানান, চীন ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখবে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বয়ে এনেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যে বড় একটি পদক্ষেপ।
এছাড়া মার্কিন কৃষিপণ্য যেমন সয়াবিন ও পোল্ট্রি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও চীন সম্মত হয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কিছুটা শিথিলতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, এই বিষয়ে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
দুই দিনের এই সফরের প্রথম দিন শেষ হয় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায়, যেখানে শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।








