শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩, ১৪ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

সংস্কার প্রস্তাবে ত্রিমুখী অবস্থানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

দেশে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ১৬৬টি সংস্কার সুপারিশে ভিন্নমুখী মতামত দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ ছয়টি বিষয়ে গঠিত কমিশনের সুপারিশে তিনটি দলের অবস্থানে এসেছে স্পষ্ট পার্থক্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা ও মেয়াদ নিয়েও রয়েছে মতবিরোধ।

বিএনপির ভিন্নমত স্পষ্ট :

বিএনপি ঐকমত্য কমিশনের অনেক সুপারিশে দ্বিমত জানিয়েছে। বিশেষ করে, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালকে একই স্তরে তুলনার প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে দলটি একমত নয়। তবে বিচার বিভাগের বেশিরভাগ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি সম্মতি জানিয়েছে।

দলটির মত অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে ডিলিমিটেশনের অধিকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইসির হাতে দেওয়া যেতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত ২০টি প্রস্তাবের মধ্যে ১১টিতে সরাসরি একমত, কয়েকটিতে নীতিগত একমত এবং একটি প্রস্তাবে ভিন্নমত জানিয়েছে দলটি। প্রশাসন সংস্কারের ২৬টি প্রস্তাবের প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে একমত এবং বাকি অর্ধেকে মতামত দিয়েছে।

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের ২৭টি প্রস্তাবের অধিকাংশই সংবিধান সংশোধনের আওতাভুক্ত বলে মনে করছে বিএনপি। তাই এসব বিষয়ে কমিশনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার কমিশনের মাধ্যমেই আলোচনা হওয়া উচিত বলে দলটির দাবি।

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে জামায়াত :

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও আস্থা’ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। দলটি সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চায়।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের ধারণা মেনে নিলেও পুরোপুরি একমত নয় জামায়াত। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে আস্থাভোট ও বাজেট পাসে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়েছে তারা। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চায় না দলটি।

গণপরিষদের দাবি এনসিপির :

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের মধ্যে ১১৩টিতে একমত, ২৯টিতে আংশিক একমত এবং ২২টিতে দ্বিমত জানিয়েছে। দলটি আসন্ন নির্বাচনকে একটি ‘গণপরিষদ নির্বাচন’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্ভব হবে।

তরুণদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রার্থী মনোনয়নে ১০ শতাংশ কোটা এবং সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে এনসিপি একমত এবং চায় উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা আগেই প্রকাশ করা হোক। নির্বাচনকালীন সরকারের মেয়াদ ৭০–৭৫ দিন এবং কাজ হবে কেবল নির্বাচন আয়োজন—এমন ব্যবস্থার পক্ষে তারা। এনসিসি থাকলে আলাদা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে এনসিপি।

বিচার বিভাগের জন্য আর্থিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও জানিয়েছে দলটি।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নেত্রকোনায় বাস চাপায় সিএনজির দুই যাত্রী নিহত
ইরান থেকে ফেরার পথেই কিউবা দখল করবো: ট্রাম্প
‘ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কথা ভাবার জন্য কেউ ছিল না’
ডিসি সম্মেলন শুরু কাল রোববার
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাকালু শিখরে বাবর আলী
আজ সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কোনো নারীই ‘ট্রফি’ হতে চায় না: প্রীতি জিনতা
‘একাত্তরের জামায়াত আর বর্তমান জামায়াত এক নয়’
নকলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ
ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে ইরান
আজ মহান মে দিবস
বিচ্ছেদ ভুলে ফের প্রেমে মশগুল হানিয়া আমির
বিয়ের আগে টানা লাউ খেয়েছেন যে অভিনেতী
নকলায় ক্ষতিকর রং মিশিয়ে আইসক্রিম তৈরি: ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা ২৩ হাজার ৮৬৫টির বেশি মামলা প্রত্যাহার
হাম পরিস্থিতি আগামী মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
ইনুকে ‘টেনশন না করতে বলা’ দুই কনস্টেবল শাস্তির আওতায়
প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত, ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.