বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, ১২ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

ভারতীয়দের তোপের মুখে মুসলিম দম্পতি

ধর্মীয় ইস্যু তুলে ভারতে মুসলিম এক দম্পতিকে তাদের অধিকৃত বাড়ি পুনরায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, ধর্মীয় কারণে ওই মুসলিম দম্পতিকে তাদের ক্রয় করা বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না তাদের হিন্দু প্রতিবেশীরা।

নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মোরাদাবাদের টিডিআই নামক একটি আবাসিক এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে হিন্দু অধ্যুষিত আবাসিক এলাকাটিতে মুসলিম দম্পতির কাছে বাড়ি বিক্রয়ের খবর জানাজানি হলে প্রতিবাদে নামে স্থানীয় হিন্দুরা।

পরে প্রতিবাদের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে ভারত জুড়ে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা। মেঘা অরোরা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, কারো সঙ্গে পরামর্শ না করেই মুসলিম দম্পতির কাছে বাড়িটি বিক্রি করেন অশোক বাজাজ নামের এক চিকিৎসক।

অরোরা বলেন, আমরা আমাদের মন্দিরের সামনে মুসলিম পরিবারকে সহ্য করতে পারি না। এটি হিন্দু নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। হিন্দু ওই নারী আরও বলেন, আমরা এই বাড়ি বিক্রির বিষয়টি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই এবং প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন বাড়ির নতুন মালিকদের নিবন্ধন বাতিল করেন।

অরোরা জানিয়েছেন তাদের কাছে প্রতিবেশী হিসেবে মুসলিম দম্পতি অসহনীয়। তিনি বলেন, আমরা ভিন্ন ধর্মের কাউকে এখানে আসতে দিতে পারি না। আমরা তাদের এখানে প্রবেশ করতে দেব না। এছাড়া মুসলিম দম্পতি তাদের বাড়ি অধিকরণের বিষয়টি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন অরোরা।

এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে হিন্দু বাসিন্দারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় ঘেরাও করে সেখানে ডা. বাজাজ এবং ওই দম্পতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। এই বিক্ষোভের ফলে বাড়িটি পুনরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. বাজাজ।

শুক্রবার বিবিসিকে তিনি বলেন, এই হাউজিংয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় একটি রেজোলিউশন হয়েছে এবং হাউজিং সোসাইটিতে বসবাসকারী হিন্দু পরিবারের কাছে বাড়িটি পুনরায় বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন মুসলিম দম্পতি। মোরাদাবাদের একটি চক্ষু হাসপাতালে কর্মরত আছেন ডা. বাজাজ। তিনি ওই হাউজিংয়ে প্রায় ছয় বছর বাস করেছেন। তিনি বলেন, যেই মুসলিম দম্পতির কাছে বাড়িটি বিক্রি করা হয়েছে তারা উভয়েই চিকিৎসক।

তাদেরকে প্রায় ৪০ বছর ধরে চেনেন বলে জানিয়েছে ডা. বাজাজ। আবাসিক এলাকা জুড়ে প্রতিবাদের ঘটনায় নতুন বাড়িতে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না মুসলিম পরিবারটি। তবে এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন ডা. বাজাজ। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারিনি যে এই ঘটনাটি জাতীয় খবর হয়ে উঠবে। হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাটিতে বাড়ি কেনা নিয়ে মুসলিম বাসিন্দাদের এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে একই ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন দুটি মুসলিম পরিবার। বাড়ি কেনার পর কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোর তোপের মুখে পড়েছিলেন তারা। গ্রামীণ ভারতে দীর্ঘকাল ধরেই জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারতের শহরাঞ্চলে একই চিত্র বিদ্যমান থাকার কথা। তবে সম্প্রতি শহরগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা শোনা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

শিক্ষামন্ত্রীর নতুন পিএস বিচারক ফারহান ইসতিয়াক
সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থীর গেজেট কাল
দাম বাড়ল সয়াবিন তেলের
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের নকশা উপস্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
বিরোধী দলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাজেটে চাপ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
৮ মে মুক্তি পাচ্ছে থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়কন’
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে ৩৩তম দেশ বাংলাদেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কমবে লোডশেডিং
আমরা মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার যুক্ত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন অবরোধ ডিঙিয়ে তেল রপ্তানি করছে ইরান
“রক্তদানে আমরা শেরপুর” সংগঠনের নকলা কমিটি গঠন: সভাপতি সোহাগ, সম্পাদক সজিব
মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
মা-বোনদের এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
রাশিয়া পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.