মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতা বাড়ছে, তখন কয়েক বছরের বিরতির পর আবারও ইরান থেকে তেল আমদানি করেছে ভারত। সরবরাহ ঝুঁকি ও হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রিফাইনারিগুলো ইরানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ইরানি তেল আমদানিতে অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় তেলের চাহিদাও ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছিল ভারত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
ভারত জানিয়েছে, দেশটি ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি তেল আবারও আমদানির তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, ইরান থেকে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজিও আমদানি করেছে ভারত। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জাহাজে করে আনা এই গ্যাস ভারতের মাঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা খালাস করা হচ্ছে।
ভারতের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাপ কমাতে ইরানের সমুদ্রে ভাসমান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য অস্থায়ী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ উৎস বহুমুখী করতেই ভারত নতুন করে ইরানি জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে।








