প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে দিল্লি।
সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সম্পর্ক নতুনভাবে শক্তিশালী করতে চায় দুই দেশ। এ সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিতে আগ্রহী ভারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে নেপাল ও সৌদি আরব সফরের পরিকল্পনা থাকলেও তা পরিবর্তন করে ভারত সফরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সফরের সময়সূচি কিছুটা পেছানো হলেও ১০ মের আগে যেকোনো সময় এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অন্যতম। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এরই মধ্যে সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সম্ভাব্য সফর ও চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরদিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফরের পর বিষয়টি আরও এগিয়ে যায় এবং একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সফর প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সফরসঙ্গী হিসেবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অর্থ, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র ও পানিসম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা থাকতে পারেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি দলও সফরে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে কূটনৈতিক মহল।








