বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে এবার সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হচ্ছে না। তবে দর্শকরা যেন খেলা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এর সম্প্রচার স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সে সময় স্বত্ব ক্রয়ে নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা খতিয়ে দেখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে স্বত্ব কিনে তা বিটিভির কাছে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্বচ্ছ রয়ে গেছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অঞ্চলভিত্তিকভাবে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক গ্রুপগুলো সেই স্বত্ব কিনে পরে বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে বিক্রি করে। এই বহুস্তরীয় প্রক্রিয়াতেই মূল্য বেড়ে যায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বলয় তৈরি হয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে আলোচনায় আসে তমা গ্রুপ-এর নাম, যারা মূলত নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান হলেও সম্প্রচার স্বত্ব আনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক সে সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর সহসভাপতি ছিলেন, যা নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় আলোচনায় আসে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং কাজী সালাউদ্দিন-এর নামও। যদিও সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেননি, তবে ক্রীড়াঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব ঘিরে বিপুল বিজ্ঞাপন আয়ের সুযোগ থাকায় এ খাতে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়। জনপ্রিয় ম্যাচের সময় বিজ্ঞাপনের মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা পুরো ব্যবসাটিকে আরও লাভজনক করে তোলে। ফলে এই খাতকে ঘিরে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে বিটিভিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থার কাছ থেকে স্বত্ব কেনার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে খরচ কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত হবে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে পরিষ্কার হয়েছে, অতীতের বিতর্কিত প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে পূর্বের অনিয়মের চিত্র কতটা স্পষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে এই খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় কি না।








