নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় বিজয়ীরা পরাজিতদের ওপর চড়াও হচ্ছে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে—যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শনিবার ইফতারের পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামী যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছে সেখানে পরাজিতদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি; বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে। অথচ অনেক আসনে বিজয়ীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার আগেই যদি এসব সহিংসতা বন্ধ না হয়, তাহলে নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্নের কথা বলা হচ্ছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সহিংসতা-উস্কানি থামাতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনীতিতে সহনশীলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশ একটি নতুন পথে এগোতে চেয়েছে—এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতার সংস্কৃতি শক্ত করা। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সরকার ও বিরোধীদলকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়—সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দেশ সামনে এগোয়।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মাস আত্মশুদ্ধির মাস। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।







