রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৬ শাবান ১৪৪৭, বসন্তকাল

ফাল্গুনে ভালোবাসার দিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

আজ ফাল্গুনের শুরু। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনি বার্তা নিয়ে আসে দিনটি। কুয়াশা সরিয়ে রোদ ঝলমলে আকাশ, শিমুল-পলাশের আগুন রঙের আভা আর নতুন পাতার সবুজে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। এ বছর একই দিনে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফলে সারা দেশে বসন্ত ও ভালোবাসা মিলেছে একই আবহে।

বাংলা সাহিত্যে বসন্ত মানেই উচ্ছ্বাস, নবজাগরণ ও হৃদয়ের জাগরণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তকে দেখেছিলেন বিজয়ের প্রতীক হিসেবে- ‘বসন্তে ফুল গাঁথলো ও আমার জয়ের মালা’। তারই আরেক পঙ্ক্তি- ‘আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে/ এত পাখি গায়’। এখানে বসন্ত যেন কেবল ঋতু নয়, এক অন্তর্গত আলোকোন্মেষ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়, ফোটে ফুল আসে যৌবন সুরভি বিলায় দোহে/ বসন্তে জাগে ফুলবন অকারণ যায় বহে। বসন্ত তাই তরুণ প্রাণের ঋতু, স্বপ্নের ঋতু। লোকগীতির সুরেও ধ্বনিত হয় সেই আবেগ, বসন্তে মন কেন উদাস পাখি হয়ে যায়/ সে পাখি কোন বনে যায়। আবার ভালোবাসার নিবেদনও শোনা যায়- ‘বসন্তে ভালোবাসা কারে কই/ বল না বল না সই’। দক্ষিণা বাতাসে দুলতে থাকা এই আবেগই আজকের দিনের মূল সুর।

রাজধানী ঢাকা থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহর, সবখানেই আজ উৎসবের আমেজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বসন্তবরণের আয়োজন করা হয়েছে। তরুণীরা পরবেন হলুদ শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা বা পলাশ। তরুণদের পাঞ্জাবিতেও বসন্তের রং। কোথাও সংগীতানুষ্ঠান, কোথাও কবিতা আবৃত্তি, কোথাও বা আল্পনা আঁকার আয়োজন।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ঐতিহাসিক উৎস পাশ্চাত্যে হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিনটি পেয়েছে নিজস্ব মাত্রা। এখানে এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা সহকর্মীর প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। বসন্তের সঙ্গে একই দিনে উদযাপিত হওয়ায় দিবসটি পেয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির স্বতন্ত্র রূপ।

গতকাল সকাল থেকেই ফুলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। লাল গোলাপের চাহিদা যেমন বেশি, তেমনই বসন্তের প্রতীক গাঁদা, রজনিগন্ধা ও পলাশও সমান জনপ্রিয়। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই দিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কার্ড, চকোলেট, বই ও ছোট উপহারের দোকানেও একই চিত্র দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বসন্ত ও ভালোবাসা নিয়ে সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ছবি, কবিতার পঙ্‌ক্তি ও শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে উঠেছে অনলাইন পরিসর। হলুদ শাড়িতে ছবি, প্রিয়জনকে ট্যাগ করে ভালোবাসার বার্তা, কবিতার লাইন বা ছোট্ট শুভেচ্ছা, সব মিলিয়ে ভার্চুয়াল জগতেও বসন্তের হাওয়া। অনেকেই আবার বেছে নিচ্ছেন বই উপহার দেওয়ার মতো ভিন্নধর্মী উদ্যোগ, যা ভালোবাসাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

তবে এই দিনটির তাৎপর্য শুধু রোমান্টিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বসন্ত যেমন নতুন জীবনের বার্তা দেয়, তেমনই ভালোবাসা পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে। ব্যক্তিজীবন থেকে সামাজিক পরিসর, সবখানেই প্রয়োজন এই ইতিবাচক শক্তির।

গ্রামবাংলায় আজকের দিনটি উদযাপিত হয় সহজ-সরল আয়োজনে। কেউ মাঠে বসে গান গায়, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, কেউ বা প্রিয় মানুষকে একটি ফুল উপহার দেয়। শহরের জাঁকজমক না থাকলেও আবেগের কমতি থাকে না এখানে। শহর কিংবা গ্রামে ফাল্গুনের প্রথম দিনে তাই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক মানুষে মানুষে, হৃদয়ে গাঁথা হোক সৌহার্দের মালা। বসন্তের রঙে রাঙা হোক দেশ, ফুটুক ভালোবাসার ফুল।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮ 
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.