আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বোর্ড।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আপিল বোর্ডের এ রায় ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তার আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে (বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া) ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে ১২ জানুয়ারি শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরে ১৬ জানুয়ারি পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা স্থগিত করা হয়। অবশেষে ১৮ জানুয়ারি রাতে নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে।
ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় শেরপুর-২ আসনে বর্তমানে চারজন বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া ভিপি, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস এবং এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা।
তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টি ১০ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত থাকায় এবি পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির একজন ও জাতীয় পার্টির একজন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এছাড়া, মাত্র পাঁচ মিনিট দেরিতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় এবি পার্টির প্রার্থিতা প্রথমে বাতিল হয়। পরে হাইকোর্টে রিটের শুনানি শেষে গত ১৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।







