প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একদিনের জন্যও বিলম্ব হবে না। তিনি বলেছেন, সামনের পাঁচ দিন দেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংকটময় সময় হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি সরকারের গত এক বছরের কর্মকাণ্ড, চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। এ সময় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শুরু থেকেই নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে আছেন। প্রথমে ঘোষণা ছিল এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হবে। পরে লন্ডনে আমরা বলেছি, সংস্কারকাজ এগোলে ফেব্রুয়ারিতেই হবে। আমরা সেই জায়গাতেই আছি— এবং নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, একদিনও দেরি হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “চার্টার বা প্রোক্লেমেশন যেভাবেই হোক না কেন, নির্বাচন তার নির্ধারিত সময়েই হবে। এ নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা রাখার সুযোগ নেই।”
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব নেই, তখন দেশটার অবস্থা ছিল ভয়াবহ— যেন ভূমিকম্পে ছারখার হয়ে যাওয়া একটি দেশকে গুছিয়ে নিতে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে সরকার চেষ্টা করেছে দেশকে ফের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে। আমার বিশ্বাস, অন্তর্বর্তী সরকার সেই কাজে অনেকটাই সফল হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, এক বছরের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নানা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করেছে।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, “বিদ্যুৎ খাতে একটি আইন ছিল ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট’। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে বাজে আইন আর আসেনি। এই আইনের আড়ালে লাখ কোটি টাকা লুট হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যেই এই আইন বাতিল করেছি। এটা সরকারের বড় পদক্ষেপগুলোর একটি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল— বাংলাদেশের সুশাসন ফিরিয়ে আনা। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”
প্রেস সচিব বলেন, “দুই-একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পুলিশ যেভাবে কাজ করছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে— জাতিসংঘও যেভাবে বলে, সে অনুযায়ী।”
শফিকুল আলম বলেন, “মূল্যস্ফীতি এখন ৮ শতাংশের কাছাকাছি। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেটা করতে পেরেছে। ডলার-টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।”
তিনি প্রবাসীদের অবদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।








