দীর্ঘ ১৭ বছর পর কারামুক্ত হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েই সোজা চলে যান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় কারা ফটকে অপেক্ষমাণ নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অপেক্ষমাণ বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।
তার মুক্তির অপেক্ষায় কারাগারের সামনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। দলীয় পতাকা হাতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা দলে দলে কারাগারের সামনে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারাগারের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। প্রায় দেড় যুগ পর নেতাকে সামনাসামনি দেখা যাবে, এমনটা ভেবে জেলগেটের সামনে ভিড় করেন তার সমর্থকরা। অনেকেই জেলগেটের বেষ্টনী ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। কেউ কেউ বেষ্টনী পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করলেও কারারক্ষীদের তৎপরতায় তাদের কার্যসিদ্ধি হয়নি। একপর্যায়ে বাবরের সমর্থকদের চাপে বেষ্টনী ভেঙে পড়ার উপক্রমও হয়।
কারামুক্ত হয়েই সরাসরি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানান লুৎফুজ্জামান বাবর। বিকেলে কারাগার থেকে বের হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে যান বাবর। পরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাত করেন।
এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিব, মদন উপজেলা বিএনপি সভাপতি নুরুল আলম তালুকদার, খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রউফ স্বাধীন, মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সেলিম খান কার্ণায়েন প্রমুখ।
লুৎফুজ্জামান বাবর জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাত তুলে নেতাকর্মীদের অভিবাদনের সাড়া দেন। জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানানোর পর বনানীতে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে অসুস্থ বাবর রওনা হন তার গুলশানের বাসায়।








