মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১ জিলহজ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

‘ইন্ধনদাতারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইন্ধনদাতারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। হয়তো একেকজনের মতলব একেক রকম। তাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক স্বার্থ থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো ইন্ধনে প্রভাবিত না হওয়া।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বনানীর সেনা অফিসার্স মেসে এক বিফিংয়ে সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশন্স ডিরেক্টরেটের কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে ইন্ধনে প্রভাবিত না হওয়া। তাহলে ইন্ধনদাতাদের প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সামাজিকমাধ্যমে কোনো ইন্ধনদাতা একটি পোস্ট করার পর সেটি না বুঝেই অনেকে ছড়িয়ে দেন। যেসব ইন্ধনদাতা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় গত মঙ্গলবারের বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারের পর থেকে তার অনুসারীরা বিক্ষোভ করেছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এরপরও কেন হত্যাকাণ্ড এড়ানো যায়নি?– এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব বলেন, মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টা থাকবে, যেকোনো ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধ করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত না থাকলে সেখানে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। সময়মতো পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। আপনারা জানেন, সেখানে বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় কত ছিল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন ধরনের গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের একটি হলো চিহ্নিত অপরাধী গোষ্ঠী, যাদের কাজই হচ্ছে অপরাধ করা। আরেকটা হচ্ছে ইন্ধনদাতা, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে। আরেকটা বড় গ্রুপ দেশের সাধারণ মানুষ। যেমন ছাত্ররা বা গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীর মূল ভূমিকা চিহ্নিত অপরাধী ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে। ছাত্ররা যখন কারও ইন্ধনে পরিস্থিতি না বুঝে পথভ্রষ্ট হয়, তখন তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের একটু চিন্তা করতে হয়। ছাত্ররাই কিন্তু আন্দোলন করে দেশের এমন একটা পরিবর্তন এনেছে। আশা করি, দেশটা ভালো অবস্থায় যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব বলেন– গোয়েন্দা ঘাটতি আছে, সেটা বলব না। গোয়েন্দা, পুলিশসহ সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আমরা কাজ করছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। এতে অনেকের মনে হতে পারে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেক ঘটনা আগেভাগে প্রতিরোধ করা গেছে।

ব্রিফিংয়ে গত দুই সপ্তাহে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৩ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ২৪টি অবৈধ অস্ত্র ও ৩৬৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৪০টি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ১৮টি সড়ক অবরোধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। কারখানাগুলো চালু রাখার জন্য মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ৩ হাজার ৪৩০ জনকে দেশের বিভিন্ন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ জন এখনও চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি আহত ব্যক্তির অস্ত্রোপচার হয়েছে। এছাড়া, চারজন গুরুতর আহত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২০ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনীর ১ জন কর্মকর্তা নিহত এবং ১২২ জন সদস্য আহত হওয়ার তথ্য ব্রিফিংয়ে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদবির অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা গত ১৫ নভেম্বর ফের ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

কমল তেলের দাম
পিছু হটলেন ট্রাম্প, দায় চাপালেন অন্যদের ঘাড়ে!
ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক
নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয় করবে: প্রধানমন্ত্রী
মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন লাশ উদ্ধার
বড়পর্দায় আসছে জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’
তামিম-রিয়াদসহ বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর হলেন যারা
নতুন মাঠে আক্ষেপ ঘুচালো মেসি
পে-স্কেল ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার জিও জারি
নতুন বছরে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম পাবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক
ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট
হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আসছে এক কোটি ভিটামিন এ ক্যাপসুল
ঢাকায় পৌঁছেছে কারিনার মরদেহ
রাজস্থানে দিল্লিগামী ট্রেনে আগুন
আবারও রোনালদোর কান্নার মুহূর্ত
বিশ্বকাপে বিনা পারিশ্রমিকে গাইবেন শাকিরা- ম্যাডোনা-বিটিএস
জীবনের ১৭টা বছর নষ্ট করেছি: মিরা

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.