অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার হলি ফ্যামিলি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার শ্রম উপমন্ত্রী এহাব আল-গুসেইনসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। স্কুলটিতে অনেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। রবিবার (৭ জুলাই) হামাস এ তথ্য জানিয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট বলেছে, ‘হলি ফ্যামিলি স্কুলকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা সেখান থেকে চারটি মরদেহ ও বেশ কয়েকজন আহত ফিলিস্তিনিকে উদ্ধার করেছে।’
৪৫ বছরের আল-গুসেইন ২০২০ সাল থেকে গাজার শ্রম উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের সিভিল সার্ভিসের জরুরি কমিটির প্রধান ছিলেন। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ছিলেন।
একজন স্থানীয় কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিন মাস আগে আল-গুসেইনকে গাজা সিটি ও উত্তর গাজায় হামাস সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের মে মাসে তার বোন মুনা জামাল ও তার স্ত্রী আমানি সাকিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।
ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার একটি স্কুল ভবন এলাকায় সন্ত্রাসীরা তৎপরতা চালাচ্ছিল ও লুকিয়ে ছিল। তাই তারা ওই স্কুল ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আল-গুসেইন এ হামলাতেই নিহত হয়েছেন কি না তা স্পষ্ট করে বলেনি।
এ নিয়ে পরপর দুই দিন গাজার দুটি বিদ্যালয়ে বিমান হামলা করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। রবিবার আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার (৬ জুলাই) নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘ পরিচালিত আল-গাউনি স্কুলে বিমান হামলা করে ১৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আহত হয়েছে আরও ৭৫ জন।
গত নয় মাসে হামাস প্রশাসনের আরও অনেকে নিহত হয়েছে।
গত নভেম্বরে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায়, উপসংস্কৃতি মন্ত্রী ও আইন পরিষদের ডেপুটি স্পিকারও নিহত হন। তাদের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও নিহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় ৪ হাজারের মতো। হামাস জিম্মি করে ২৪০ থেকে ২৫৩ জনকে।
হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ১৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮৭ হাজার ৮২৮ ফিলিস্তিনি।
এ ছাড়াও ১০ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিরা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে। আর মরদেহগুলো তাদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।
সূত্র : সিএনএন, বিবিসি








