পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে আহমেদ দানিয়েল প্রথম উইকেট পেলেন নিজের পঞ্চম বলেই। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে বাংলাদেশের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে আউট করলেন তিনি। ১৩ রান করে মিড অনে ফাহিম আশরাফকে সহজ ক্যাচ দেন ইমন। ৫.৫ ওভারে ২৮ রানে চতুর্থ উইকেট পড়লো। পাওয়ার প্লেতে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৯ রান।
রান আউট হৃদয়
তিন বল খেলে কোনও রান না করে তাওহীদ হৃদয় মাঠ ছাড়লেন। আগের ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা বাংলাদেশের ব্যাটার রান আউট হয়েছেন। ৪.৪ ওভারে সালমান মির্জাকে মিড অফে মেরে দৌড় দেন তিনি। সালমান আগা ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল নিয়ে সরাসরি থ্রোতে তাকে বোলারের প্রান্তে রান আউট করেন। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
লিটনের ৮ রানে বিদায়
টি-টোয়েন্টিতে চার-ছক্কা দেখার উদ্দীপনা থাকে প্রবল। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই বাউন্ডারির দেখা মিললো ১৬তম বলে। লিটন দাস ২.৪ ওভারে সালমান মির্জাকে পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন।
পরের ওভারে পারভেজ হোসেন ইমন একই পথে হেঁটে টানা ছয়-চার মারেন। বাংলাদেশ আগ্রাসী রূপ ধারণ করতেই আরেকটি উইকেট হারালো। পঞ্চম ওভারে ২০ রানে ভেঙে গেলো এই জুটি।
লিটন ৯ বলে ৮ রান করে মির্জার শিকার হন। ডিপ মিড উইকেটে জোরালো শট খেলে হাসান নওয়াজকে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আগের ম্যাচেও ১ রানে তাকে ফেরান মির্জা। ৪.১ ওভারে দলীয় ২৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
একাদশে ফিরে হতাশ করলেন নাঈম
শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হয়েছিল নাঈম শেখকে। অপ্রস্তুত অবস্থায় ওই পজিশনে নেমে ভালো ব্যাটিংই করেছিলেন তিনি। ৭ উইকেট হারের ম্যাচে অপরাজিত ৩১ রান করে পরের ম্যাচে বাদ পড়েন নাঈম। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে পছন্দের পজিশন ওপেনিংয়ে খেলানো হলো। কিন্তু তিন ম্যাচ পর একাদশে ফিরে হতাশ করলেন বাংলাদেশের ব্যাটার। ৭ বল খেলে ৩ রান করে আউট তিনি।
১.৩ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে সহজ ক্যাচ হন নাঈম। ৫ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙলো। ৭ বল খেলে বিদায় নিলেন নাঈম।
সিরিজের দ্বিতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের জন্য ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগ্রাসী ব্যাটিং কৌশল বুমেরাং হওয়ায় সফরকারীদের এই সিদ্ধান্ত।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। খুররাম মালিক মন্তব্য করেছেন, ব্যাটিং লাইনআপে এত বেশি ‘হিট-অর-মিস’ খেলোয়াড় রাখা যায় না। সামগ্রিকভাবে খারাপ কৌশল, অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন। পাকিস্তানের দলে অবশ্যই একজন বিচক্ষণ খেলোয়াড় দরকার।
পাকিস্তানের টপ-অর্ডার স্ট্রাইক ঠিক রাখতে হিমশিম খেয়েছে, ৬৯টি ডট বল খেলেছে এবং উইকেটরক্ষা ও শট নির্বাচনেও ছিল ভুল। কোচ হেসন পিচকে ‘আদর্শ নয়’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মানের নয়’ বললেও, বাংলাদেশ ৭ উইকেট ও ২৭ বল হাতে রেখে ১১০ রান তাড়া করে সহজেই জিতেছিল, যা তার অভিযোগের সাথে অনেকটা সাংঘর্ষিক।
প্রথম ম্যাচের দাপটের পর চনমনে বাংলাদেশ
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দারুণ জয়ের পর বাংলাদেশ দল বেশ চনমনে মেজাজে রয়েছে। বাংলাদেশ বোলার তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান, পাকিস্তানের পিচ বুঝতে না পারার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। কিছু ক্যাচ হাতছাড়া হলেও, তাদের সুশৃঙ্খল বোলিং পাকিস্তানকে মাত্র ১১০ রানে আটকে রাখে।








