শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

আশুরার তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

ধর্ম ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

আরবি বর্ষপঞ্জিকার প্রথম মাস মহররম। ইসলামের ইতিহাসে এ মাস বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। এ মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। পৃথিবীর শুরু থেকেই এ মাস বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অনেকের ধারণা, শুধু কারবালায় নির্মম ঘটনার কারণে আশুরার দিন এত গুরুত্ববহ, এ ধারণা সঠিক নয়। কেননা কারবালার ঘটনার বহুকাল আগে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে।

পৃথিবীতে অনেক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা আশুরার দিন ঘটেছিল। মহররম সংগ্রামী শিক্ষা এবং আত্মসচেতনতার মাস। মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী চেতনা খুঁজে পাওয়ার মাস। মহররম আসে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে। আসে নির্ভীকভাবে পথচলার কল্যাণময় শুভবার্তা নিয়ে। মহররম আসে পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে ধুয়ে-মুছে নতুন সাজে সজ্জিত করতে। এ মাস আসে আমাদের নতুন শপথ ও প্রত্যয় গ্রহণের অঙ্গীকার নিয়ে। মহররম মাস এলে মুসলিম বিশ্বে জেগে ওঠে ইসলামি সংস্কৃতি, এ মাসে বহু উল্লেখযোগ্য ও ইতিহাস প্রসিদ্ধ ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় বিভিন্ন দিক দিয়ে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

হাদিসে মহররম মাসকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে একে ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, মহররম মাসের নফল রোজার সওয়াব অন্য সব নফল রোজার সওয়াবের চেয়ে বেশি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজানের পরে সবচেয়ে বেশি ফজিলতের রোজা হলো, আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’

ইসলামের বিধান হলো, আশুরার রোজা দুটি রাখা। ১০ তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে আগে বা পরে অর্থাৎ নয়-দশ কিংবা দশ-এগারো মহররম রোজা রাখা। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা মুস্তাহাব তথা ঐচ্ছিক বলে গণ্য করা হয়। তবে আশুরার রোজা পালন করলে অফুরন্ত সওয়াব পাওয়া যায়। এ কারণে মহান আল্লাহ বান্দার পূর্ববর্তী বছরের সগিরা গুনাহ মাফ করে দেন। তাই কোনো সচেতন মুসলমান আশুরার রোজা পালন থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে

চান না।

আশুরার দিন সংঘটিত হওয়া কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরা হলো। আশুরার দিন আকাশ-জমিন ও পাহাড়-পর্বত সবকিছু সৃষ্টি করা হয়। হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো এবং গুনাহ মার্জনার পর হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে তার পুনরায় সাক্ষাৎ লাভ হয়। হজরত নুহ (আ.) মহাপ্লাবন শেষে জুদি পাহাড়ে অবতরণ করেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের প্রজ¦ালিত অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর রোগ ভোগের পর হজরত আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করেন। আশুরার দিন হজরত সুলাইমান (আ.)-কে পৃথিবীর একচ্ছত্র রাজত্বদান করা হয়। হজরত সোলায়মান (আ.)-কে হারানো বাদশাশি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হজরত ইউনুস (আ.)-কে ৪০ দিন পর দজলা নদিতে মাছের পেট থেকে উদ্ধার করা হয়। হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা পান। হজরত ঈসা (আ.)-এর পৃথিবীতে আগমন এবং জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলন। হজরত দাউদ (আ.)-কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করতে মদিনায় যান। হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭৭ ঘনিষ্ঠজন স্বৈরশাসক ইয়াজিদের সৈন্যের মাধ্যমে কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/১৩২, ফাতহুল বারী ৪/২৯১)

অনেকে ‘আশুরা’ বলতে কারবালার ঘটনাই বোঝেন। যদিও ইসলামি শরিয়তে আশুরার রোজা কিংবা ফজিলতের সঙ্গে কারবালার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে কারবালার ঘটনা পর্যালোচনা করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম উম্মাহর জন্য এ ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এখান থেকে শিক্ষণীয় অনেকবিষয় রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের ৫০ বছর পর ৬১ হিজরি সালের মহররম মাসের ১০ তারিখ শুক্রবার ইরাকের কারবালা নামক স্থানে তারই উম্মতের কিছু মানুষের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন প্রিয়তম দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)। এ ঘটনা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সৃষ্টি করেছে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি। অনেক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কাহিনী এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ছড়ানো হয়েছে। এ সব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ইতিহাসে আছে, ইয়াজিদ ছাড়াও কারবালার ঘটনার সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত রয়েছে কুফাবাসীর বিশ্বাস ঘাতকতা এবং গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের নির্মম ষড়যন্ত্র। আশুরার দিন সকাল থেকে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের বাহিনী হজরত হোসাইন (রা.)-এর সঙ্গীদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। তিনি তো যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি কুফায় লক্ষাধিক মানুষের বাইয়াত পত্রের (আনুগত্যের শপথ) আহ্বানে সাড়া দিতে দুগ্ধপোষ্য শিশু ও নারীসহ সেখানে গিয়েছিলেন। তাই প্রস্তুতিহীন যুদ্ধে তার সঙ্গীরা একে একে সবাই শহীদ হন। শহীদ হন হজরত হোসাইন (রা.)। কারবালার ঘটনা থেকে আমরা বর্তমান সময়েও শিক্ষা নিতে পারি। মুসলমানদের ক্ষতির জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা মুসলমানদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। তাই ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সব সময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও বিভ্রান্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

হজ কাদের জন্য ফরজ?
এনটিআরসিএ’র শিক্ষক শূন্যপদ ৭৭ হাজার
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের
শুক্রবার রাতে ঢাকা ছাড়বে প্রথম হজ ফ্লাইট
বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসে আসছে পরিবর্তন
বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পেলো স্বাধীনতা পুরস্কার
প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিন: প্রধানমন্ত্রী
২৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রতারক তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে পিবিআই
রাজনীতির শিকার হয়ে অভিনয় ছাড়তে চেয়েছিলাম: প্রিয়াঙ্কা
নকলায় কায়দা বালিকা মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের স্মরণীয় বিদায় অনুষ্ঠিত
কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে তুরস্ক যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আজ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী
টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘আমিও অনলাইন ক্লাস চাই না, পৃথিবী চায়’
বিয়ে আমার জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস
৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত
ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৬ দেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
কাল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন দফা বৈঠক
জেনিফার লোপেজের ‘নতুন শুরু’!
নেইমার বিষয়ে আনচেলত্তিকে যা বললেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.