বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, ১২ জিলকদ ১৪৪৭, গ্রীষ্মকাল

টিউলিপ সিদ্দিককে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আহ্বান জানান।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সরকারি বাসভবন যমুনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে টিউলিপ সিদ্দিক ও তাঁর পরিবারকে দেওয়া সম্পত্তি ভোগ করার জন্য তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। এছাড়া, লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিক যেসব সম্পত্তি ব্যবহার করছেন, সেগুলো নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি এসব সম্পত্তি ‘অবৈধ উপায়ে’ অর্জন করেছেন, তবে তা ফেরত দেওয়া উচিত।”

অর্থনীতিবিদ এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ সরকারের ট্রেজারি ও সিটি মিনিস্টার হিসেবে আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার দায়িত্বে থাকা টিউলিপ সিদ্দিকের লন্ডনের বাড়িগুলো অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কেনা হয়েছে কি না, তা তদন্ত হওয়া উচিত।”

সানডে টাইমস জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে টিউলিপ সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বাড়িতে বাস করেছেন, যা দুই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কিনেছিলেন। অথচ আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি সবসময় কথা বলে এসেছেন।

টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে। গত বছরের ৫ আগস্ট ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতে পালোনোর আগে অভ্যুত্থান ঠেকাতে তিনি শত শত মানুষকে পুলিশ বাহিনী দিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, জোরপূর্বক গুম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

সানডে টাইমস আরও জানিয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পারমাণবিক শক্তি চুক্তিতে টিউলিপ মধ্যস্থতা করেছিলেন এবং আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। তাঁর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে টিউলিপ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ব্রিটিশ সরকারের দুর্নীতি দমন মন্ত্রী হয়েছেন টিউলিপ এবং তাঁর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছু হয় না।

ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘তিনি যখন কাজটি (দুর্নীতি) করেছেন, তখন হয়তো বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখন তো বুঝতে পারছেন। এখন আপনার বলা উচিত, আমি দুঃখিত। আমি তখন বিষয়টি (দুর্নীতির) জানতাম না। এখন আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং পদত্যাগ করছি। কিন্তু তা বলছেন না। বরং নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’

এরপর সঙ্গে সঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘তাঁর (টিউলিপের) পদত্যাগ করা উচিত—এমন বলাটা আমার কাজ না।’

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

শিক্ষামন্ত্রীর নতুন পিএস বিচারক ফারহান ইসতিয়াক
সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থীর গেজেট কাল
দাম বাড়ল সয়াবিন তেলের
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের নকশা উপস্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
বিরোধী দলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাজেটে চাপ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
৮ মে মুক্তি পাচ্ছে থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়কন’
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে ৩৩তম দেশ বাংলাদেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কমবে লোডশেডিং
আমরা মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার যুক্ত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন অবরোধ ডিঙিয়ে তেল রপ্তানি করছে ইরান
“রক্তদানে আমরা শেরপুর” সংগঠনের নকলা কমিটি গঠন: সভাপতি সোহাগ, সম্পাদক সজিব
মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
মা-বোনদের এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
রাশিয়া পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.