চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উত্তপ্ত পরিবেশ, প্রতিবাদ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
সংসদের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য স্পিকার মঞ্চে আহ্বান জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেগুলোতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’—এ ধরনের স্লোগান লেখা ছিল।
স্পিকার বারবার পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
বিরোধী দলের সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনার সময় রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। তার দাবি, এ কারণেই তারা প্রতিবাদ হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।







