ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই সংসদ গঠিত হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, কিন্তু আজ তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার তার মনে পড়ছে খালেদা জিয়ার কথা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি তার স্নেহ, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ছায়ায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। কখনও সহকর্মী, কখনও কর্মী, কখনও সংসদ সদস্য, আবার কখনও মন্ত্রী বা দলীয় নেতা হিসেবে তিনি তার সঙ্গে পথ চলেছেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও দৃঢ়তার অনন্য উদাহরণ। তার মতে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অসাধারণ। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশের মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা পুনরায় শুরু হয়। তার সময়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় এবং নারী শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যতবার যে আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, ততবারই মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। আপসহীন অবস্থান, সাহসী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় ভূমিকার কারণেই তিনি মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলায় খালেদা জিয়া এমন এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, যাকে দেশের মানুষ সহজে ভুলবে না। তিনি আজ শারীরিকভাবে না থাকলেও তার রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ ও শহীদদের আত্মদানের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খালেদা জিয়া যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই এখন সবার দায়িত্ব।







