বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৫ রমজান ১৪৪৭, বসন্তকাল

শহীদ দিবসের কথকতা

চেতনার একুশ: এক গৌরবোজ্জ্বল দিন

তানজিনা জেবিন

ছবি ডিজাইন : দৈনিক কলিকাল

বাঙালির ইতিহাসে একুশ একটি গৌরবময় দিন। একুশ এলেই আমাদের মনে করিয়ে দেয় “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?” একুশ কখনো ভোলার নয়।

মনের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হল ভাষা, ভাষার মাধ্যমেই আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি, নিজের একান্ত অনুভূতি প্রকাশ করি। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই প্রথম মাতৃভাষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলাম। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি পূর্ব পাকিস্তান এবং অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ছিল বাংলা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করেছিল এদেশের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে কেন্দ্র করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ন্যায়তান্ত্রিক সমাজ গঠনে বাঙালি জাতি ছিল বদ্ধপরিকর। মাতৃভাষা অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ। এর চূড়ান্তের অবসান ঘটে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারি।

মুসলিম লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমীন ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকাতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হোন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে বেরিয়ে আসেন । পুলিশের গুলিতে নিহত হয় রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ আরো অনেকেই।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। প্রতিবার একুশ এলেই বীর শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একুশ পরবর্তী জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম যেমন শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুন্থান, ১১ দফা আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণা– এই সবই একুশের চেতনার প্রতীক।

এই দিনটিতে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হয়। তারুণ্যের কন্ঠে মুখরিত হয় একুশের গান, কবির কন্ঠে শোভা পায় কবিতা এবং অমর একুশে বই মেলার আয়োজন করা হয়।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই স্বীকৃতির ফলে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

একুশ আমাদের সামনে চলার অণুপ্রেরণা জোগায়। সর্বপ্রথম নিজের দেশের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যকে ভালোবাসতে হবে। গৌরব গাঁথা একুশকে লালন করেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ও ন্যায়তান্ত্রিক সমাজ গঠনে এগিয়ে যেতে হবে।

তানজিনা জেবিন: লেখক, কলামিস্ট ও পুষ্টিবিদ

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

আমিরাতে আটকে পড়া ২৭ জন ফ্লাইট ক্রুকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ইউএস-বাংলা
নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির
বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ইরানের পুরো আকাশসীমা দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল
নেপালে নির্বাচন আজ
গত ছয়দিনে মোট ২১০টি ফ্লাইট বাতিল
এনসিপির সঙ্গে মার্কিন সহকারীর বৈঠক স্থগিত
‘সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়নি’
কুয়েতে ড্রোন হামলায় ডুবল তেলবাহী ট্যাংকার
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সভা অনুষ্ঠিত
ইরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল আরব লীগ
দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে
মার্কিন সিনেটে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ
ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে ইরানি মিসাইলের নতুন বহর
মধ্যপ্রাচ্যের ভয়ারহতা জানালেন এশা
মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে!
মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজডুবি, নিহত ৮০
দেশে ফিরেছেন আলোচিত তিথি
জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.