লন্ডনে প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাসনে থেকে ফিরে আসার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নানা কারনেই বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক হাসিনার পতন ঘটে। প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গত কয়েকবারের সাধারণ নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগেরও সুযোগ পায়নি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এই আলোচিত নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
যদি জনমত জরিপগুলো সত্য হয় তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে সময়ই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখেন তারেক রহমান। সে সময় বীরের মতো তাকে স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি।
অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতেই আছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, খেলনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পের প্রচারের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছরের সময়কাল প্রবর্তনের কথা বলেছেন।
তারেক রহমান তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে যে, তিনি বলেছেন তিনি আসলে সেভাবে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি।
নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি না আমরা ঢাকায় অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।








