আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ঢাকা–১৫ আসনে ভোট চেয়ে প্রচারণার সময় ধারণ করা ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় পান বিক্রি করা এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ওই বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার একটি নোট তুলে দেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শাহরিয়ার কবির ওই ব্যক্তির কাছে ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো না, সবাই ভয়ের মধ্যে আছে। এ সময় শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা মুসলমান, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও ক্ষমতা নেই ভালো করার। তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, রিজিকের মালিক কে এবং এই মুহূর্তে তাদের দেখা হওয়ার মালিক কে। জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনি তার হাতে এক হাজার টাকা দিয়ে যান।
ঘটনাটি নিয়ে সোমবার শাহরিয়ার কবির গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষের সাহায্য করাই এখন বিপদ হয়ে গেছে। দোকানে বাচ্চাদের খেলনা কিনে দিলে কেউ কিছু বলে না, কিন্তু গরিব মানুষকে সাহায্য করলেই সেটি ইস্যু হয়ে যায়।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার অনেকক্ষণ কথা হয়েছে এবং তিনি জানিয়েছিলেন সারাদিনে কোনো বিক্রি হয়নি। মানবিক বিবেচনায় তাকে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তিনি কোনো ভোট চাননি। তিনি বলেন, একই জায়গায় তিনি ছোট বাচ্চাদেরও খেলনা কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন এবং তখনও বলে দিয়েছেন যে এটি নির্বাচনের জন্য নয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে টাকা দেওয়া, প্রস্তাব করা বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে ২০০৮ সালের নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো ধরনের চাঁদা বা অনুদান দেওয়া বা দেওয়ার অঙ্গীকার নিষিদ্ধ।








