রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭, বসন্তকাল

ফ্যাসিস্ট যুগের গুম-খুন, নির্যাতনের বিচার হবে: নাহিদ ইসলাম

কলিকাল প্রতিনিধি

ফ্যাসিস্ট যুগে সংঘটিত গুম-খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হামলার বিচার হবে বলে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত লুকিয়ে থাকা সকল অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি বিধান করা হবে। খুনি হাসিনাকে উৎখাত করার পর এই সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীকে নামানো হয়েছে। তবে সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা, অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তারের মতো কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনা গুম, হত্যা, বিনা বিচারে কারাবন্দী, হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা করার ক্ষেত্রে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। এতে আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠন, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই এমন সকল সরকারি বাহিনী ও সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগিয়েছে। তার এই অপকর্মে ব্যবহৃত হয়েছে জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান।

গণ-অভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লব সম্পন্ন হওয়ার পরে এর সবগুলোই ভেঙে পড়েছে। এতে নেতৃত্বদানকারী হোমড়া-চোমড়াদের কিছু লোক পালিয়েছে, কিছু বিচারের আওতায় এসেছে, অনেককে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বহু সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বিচারক এখনো কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়লেও ডিফেন্স সার্ভিস এখনো অটুট রয়েছে। তবে হাজার হাজার খুনি, লুটেরা, অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া, সেখান থেকে নিরাপদে দেশান্তরিত হওয়া, কর্মস্থল থেকে কিছু জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া, অবসরপ্রাপ্তদের বৈরিরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া, রিটায়ার্ড কিছু অফিসারের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে ফাঁস করে তাদের জব্দ করার সেনাগোয়েন্দাদের চেষ্টা জনসমাজে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক অমর্যাদা ঘটিয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “গুমবিষয়ক কমিশন ১ হাজার ৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা সব তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরা অসহযোগিতা করেই চলেছে। আমাদের লড়াই হবে সেই ‘নিপীড়নের ব্যবস্থা’ ও ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটন করা, যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সকল প্রবণতা সমাজ থেকে মুছে ফেলা।”

নাহিদ ইসলাম অঙ্গীকার করে বলেন, ‘ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প লোপাটের অর্থ উদ্ধার ও বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, হাসিনা ও তার মদদপুষ্ট আওয়ামী ব্যবসায়ী ও আমলারা এই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছে।’

তিনি আরো বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লুটপাটকৃত এই বিশাল অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও তাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত ফ্যাসিবাদী যুগের সুবিধাভোগী কিছু শীর্ষ আমলা ও বিশেষজ্ঞেরা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করায় এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হয়েছে। দেশবাসী যদি আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। খুনি হাসিনার দোসর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।”

এ সময় নাহিদ ইসলাম অঙ্গীকার করে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে সমান সংখ্যক নারী-পুরুষ নিয়োগের অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়াও তিনি ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সকল ধর্ম ও জাতিগত গোষ্ঠীর সমান নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার, নারী প্রশ্নে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।’

দখলমুক্ত দেশ গড়তে এনসিপির ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ভোজ্যতেলের দাম বাড়া নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
পাকিস্তান ছাড়লেন জেডি ভ্যান্স
হামে আরও ১০ জনের মৃত্যু
আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম
বাধ্যতামূলক ছুটিতে ইসলামী ব্যাংকের এমডি
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন কিনলেন গুম হওয়া পরিবারের নকলার লাবনী
মধুবালার বায়োপিকে কল্যাণী
‘সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না’
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
ডলারের দাম বাড়ার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতি যে আহ্বান জানাল পাকিস্তান
ইউরোপের ফুটবলে এক রাতে তিন গল্প
‘বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে’
বাছুর আলগা পীরপাল আদর্শ ক্বওমী মহিলা মাদরাসায় প্রথম সবক উদ্বোধন
তারেক রহমানের চিঠি পেয়ে আপ্লুত পূর্ণিমা
জাতীয় দলে ফিরতে সাকিবের জন্য বিসিবি’র শর্ত
‘শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা’
পাকিস্তানে মার্কিন-ইরানি প্রতিনিধি দল
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু অসুস্থ
জুনের মধ্যে ২টি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, তীব্র কালবৈশাখী পূর্বাভাস

ফটোগ্যালারী

[custom_gallery]

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.