সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’ এর জন্য এ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে।
পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়ায়। কেউ কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দাবি করে সেগুলো ফেসবুকে শেয়ারও করেন। এ ঘটনায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন ও রংপুরে দুজন রয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনেও নামেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কারণে পরীক্ষা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে অধিদফতর।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা মেলেনি : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে জেলা প্রশাসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত মনিটরিং কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহায়তায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কোনো জেলা থেকে কোনো প্রকার অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। যথাযথভাবে পরীক্ষা পরিচালনায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে অসদুপায় অবলম্বন ও ডিভাইস ব্যবহারের অপরাধে দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ/নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এছাড়াও ভুয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আটক ও মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।







