বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২, ১ শাবান ১৪৪৭, শীতকাল

ডাকসু নেতার নেতৃত্বে হেনস্তার শিকার অধ্যাপক আ ক ম জামাল

কলিকাল প্রতিনিধি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিভাগে হেনস্তার শিকার হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একই বিভাগের শিক্ষক ও নীল দলের সমর্থক অধ্যাপক জিনাত হুদাও তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আ ক ম জামাল ও জিনাত হুদাসহ কয়েকজন শিক্ষক দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে একদল শিক্ষার্থী অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। দুপুর ১টার দিকে শিক্ষকরা ভবন থেকে বের হতেই ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী অধ্যাপক জামালকে হেনস্তা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিঁড়িতে অধ্যাপক জামালের পোশাক টেনে ধরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করছেন জুবায়ের। নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে অধ্যাপক জামাল তার পরনের হুডি খুলে ফেলেন এবং সিঁড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় জুবায়ের তার পিছু ধাওয়া করেন।

একপর্যায়ে অধ্যাপক জামাল দ্রুত গিয়ে একটি গাড়িতে ওঠেন। জুবায়ের তখনো গাড়ির দরজা টেনে ধরে তাকে নামানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত জুবায়ের ঘটনার পর এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ‘স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে বলা আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার শিক্ষক আ ক ম জামাল, নীল দলের পোস্টেড নেতা জিনাত হুদাসহ ৫ জন ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক আজকে ক্যাম্পাসে এসে গোপন মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আনফরচুনেটলি আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় কুলাঙ্গারগুলো!’

তিনি আরও লেখেন, ‘ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা এদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বয়কট করেছে। তারপরও এরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাহস কিভাবে পায়! প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। খুনিদের সাথে কোনো সহাবস্থানের সুযোগ নেই। সবগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে শীঘ্রই।’

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আ ক ম জামাল ও অধ্যাপক জিনাত হুদাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। এছাড়া ‘গোপন মিটিংয়ে’ আর কোন কোন শিক্ষক ছিলেন, তা জানতে এ বি জুবায়েরকে ফোন করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ মিডিয়াকে বলেন, ‘এর আগে আ ক ম জামাল স্যার ক্যাম্পাসে এলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। পরে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করি যে, তিনি আর আসবেন না। আমরা জামাল স্যারকেও বলেছিলাম না আসতে। তারপরও তিনি এসেছেন।”

কোন পাঁচ শিক্ষক বৈঠক করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বাইরে ছিলাম, আমি জানি না। তবে এক ভিডিওতে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের আজমল স্যারকে দেখেছি। আমি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.