শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৭, হেমন্তকাল

‘খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত’

কলিকাল প্রতিনিধি

এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটেই (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে তিনি সিসিইউতেই আছেন।

আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নুরুদ্দীন আহমদ সময়ের আলোকে বলেন, ম্যাডামের অবস্থা অপরিবর্তিত। আগের মতোই আছেন।

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আগের মতোই। উন্নতি অবনতি কোনোটাই বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। পরে তার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, ম্যাডাম (ফরিদা আখতার) বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে গিয়েছিলেন। উনি সিসিইউ’র ভিতের গেয়েছিলেন। উনার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন রেসপন্স করেছেন। ইশারায় সালামের জবাব দিয়েছেন।

তিনি জানান, বুধবার বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে খালেদা জিয়ার শারীরিক খোঁজ–খবর নেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তিনি বের হয়ে আসেন। এই সময়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা।

মেডিক্যাল বোর্ডের আরেকজন চিকিৎসক সময়ের আলোকে বলেন, ম্যাডামের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। কিছুটা রেসপন্স করছেন। চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা ডাক দিলে কিছুটা সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এটাকে আশানুরূপ উন্নতি বলা যাচ্ছে না। তার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন প্যারামিটার ওঠানামা করছে।

তিনি জানান, প্রতি রাতেই ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিক্যাল বোর্ড। যেখানে দেশি-বিদেশি অন্তত দেড় ডজন চিকিৎসক যুক্ত হন। লন্ডন ক্লিনিকের বিখ্যাত চিকিৎসকরাও যুক্ত হন। অধীনে খালেদা জিয়া লন্ডনে মাসব্যাপী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকেন ছেলে তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জুবাইদা রহমান।

বৈঠকের পর নতুন করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা হয়। এভাবেই চলছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা। আশানুরূপ উন্নতি না হলে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে না।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখার পরবর্তীতে উনাকে (খালেদা জিয়া) যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে— মেডিক্যাল বোর্ড মনে করে, তখনই সেই যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।

সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

আর খালেদা জিয়ার জন্য কাতার সরকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রেখেছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের তার উপদেষ্টা এম. এ. মালিক বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া হবে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য এর আগে গত জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। প্রায় চার মাস লন্ডনে অবস্থানের পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

কবে ফিরবেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুঞ্জন বাড়ছে ক্রমেই। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, তারেক রহমান তার মায়েক শারীরিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখছেন। তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তবে চূড়ান্ত কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। বিএনপি মহাসচিব এ বিষয়ে পরিষ্কার করবেন।

দুইদিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রায় একই কথা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই তিনি তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.