চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৯ রানে হেরে সিরিজের শুরু করলো। আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে বাংলাদেশ শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
পাঁচ নম্বরে নেমে এক প্রান্ত ধরে রাখেন তাওহিদ হৃদয়। ৫০ বল খেলে ৫ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ৮৩ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন। হৃদয়ের ব্যাটিং ছাড়া দলের বাকি ব্যাটাররা মাত্র ৪৯ রান যোগ করতে সক্ষম হন। জাকের আলি ২০ ও দশ নম্বরে নামা শরিফুল ইসলাম ১২ রান করে দলের সংগ্রহে সামান্য অবদান রাখেন। একপর্যায়ে ৭৪ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর বাকি দুই ব্যাটারকে নিয়ে হৃদয় আরো ৬৮ রান যোগ করেন। নবম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ডও গড়েছে।
বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভীতিকর। প্রথম চার ব্যাটার মিলিয়ে মাত্র ১০ রান করেন—তানজিদ হাসান ২, পারভেজ হোসেন ১, লিটন দাস ১ ও সাইফ হাসান ৬। এটি দেশের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথম চার ব্যাটারের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২ রান ছিল পূর্বের সর্বনিম্ন। এ ছাড়া পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২০ রান করাও বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর হিসেবে ইতিহাসে যুক্ত হলো।
আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ছিল ধারাবাহিক ও আক্রমণাত্মক। দুই ওপেনার পল স্টারলিং ও টিম টেক্টর শুরুতেই দ্রুত রান যোগ করেন। পরে হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার চতুর্থ উইকেটে ৪৪ রান যোগ করে দলের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেন। হ্যারি টেক্টর ৩৭ বলে ৬৯* রান করে অপরাজিত থাকেন। লোরকান টাকার ১৮ ও ক্যাম্ফার ২৪ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ২ উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন। তানজিম হাসানও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তবে এই বোলিং সাফল্যও দলের পরাজয় রোধে যথেষ্ট ছিল না।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮১/৪ (স্টারলিং ২১, টিম টেক্টর ৩১, হ্যারি টেক্টর ৬৯*, লোরকান টাকার ১৮, ক্যাম্ফার ২৪, ডকরেল ১২*; শরিফুল ৪-০-৪২-১, নাসুম ৪-০-৩৭-০, সাকিব ৪-০-৪১-২, মোস্তাফিজ ৪-০-২৩-০, রিশাদ ৪-০-৩৪-১)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪২/৯ (তানজিদ ২, পারভেজ ১, লিটন ১, সাইফ ৬, হৃদয় ৮৩*, জাকের ২০, সাকিব ৫, রিশাদ ০, নাসুম ০, শরিফুল ১২, মোস্তাফিজ ২*)









