শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেইগি’ (স্থানীয় নাম টিনো) ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবু দ্বীপ। প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ঝোড়ো হাওয়ায় দ্বীপটির ঘরবাড়ি, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশই ডুবে মারা গেছেন। আকস্মিক বন্যায় শত শত ছোট ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। পানি নামার পর জায়গায় জায়গায় ঘন কাদার স্তর জমে আছে। উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে দুর্গত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নিচ্ছেন।
উদ্ধারে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৬
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে যাওয়ার পথে একটি সামরিক হেলিকপ্টার নর্থ মিন্দানাওয়ের আগুসান ডেল সুর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ফিলিপাইন বিমান বাহিনীর (PAF) ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন।
এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, “আমরা ভেবেছিলাম প্রবল বাতাসই সবচেয়ে বড় হুমকি হবে, কিন্তু ভয়াবহ বন্যাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকেই পালাতে পারেননি।”
প্রতি বছর ফিলিপাইন প্রায় ২০টি টাইফুন ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। এ বছর এর আগে সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’ (নানডো) ও টাইফুন ‘বুয়ালই’ (ওপং) আঘাত হেনেছিল। এছাড়া গত মাসেই কেন্দ্রীয় ফিলিপাইনে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বহু মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে সেবুই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ছিল।
ফিলিপাইন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কালমেইগি বর্তমানে হাওয়াইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এরপর এটি ভিয়েতনাম উপকূলের দিকে যাবে। ইতোমধ্যেই ভিয়েতনামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি করেছে।









