শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেরপুর জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় বয়ে যায়।
শেরপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আদোলনের মাস্টার মাইন্ড ও হত্যা মামলাসহ সাত মামলার আসামি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশে শেরপুর জেলা হাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর জেল গেট থেকে ওই দিনই ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় পুলিশ চন্দন পালকে আবারো গ্রেফতার করা হয়।
গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) শেরপুর আদালত থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চন্দন কুমার পালের জামিন হলে সোমবার সকালে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা কারাগারের জেলার আব্দুস সেলিম।
এই জামিনের বিষয়টি মঙ্গলবার চাউর হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশিজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এনসিপির সাবেক জেলা সমন্বয়ক মামুনুর রশিদ বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ও হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলার আসামি, হাসিনা সরকারের দোসর ফ্যাসিস্ট চন্দন কুমার পাল কীভাবে জামিন পেলেন। তার পক্ষে যেসব আইনজীবী সাফাই গেয়েছেন তাদের বিবেক তো বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে মৃত ছিল।
তিনি আরো বলেন, গত ১৬ বছর তিনি পিপি পদে থেকে ভিন্নমতের নাগরিকদের কত জুলুম, মামলা দিয়ে কারাগারে রেখেছেন তা হয়তো অনেকেই ভুলে গেছেন। জানা গেছে, তিনি এরই মধ্যে ভারতে চলে গেছেন।
মামুনুর রশিদ বলেন, যারা এই খুনির সাফাই আদালতে করেছেন তাদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কীভাবে আওয়ামী লীগের এই হেভিওয়েট নেতা যিনি জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। তাকে জামিনে সহায়তা যারা করেছেন, আসলে তারা কীভাবে বিবেককে বিসর্জন দিয়ে এমন কাজ করেছে তা আমার বোধগম্য নয়।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, বিগত দেড় দশকের বেশি সময় অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পিপি থাকাবস্থায় ভিন্নমতের মানুষদের এমন কোনো জুলুম নেই, যা তিনি আদালতের মাধ্যমে তা ভোগ করিয়েছেন। ছাত্রজনতার আন্দোলন ঠেকাতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমন একজন প্রকাশ্য অপরাধীর জামিনের সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনো একটি মহল জড়িত, নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের মুখ উন্মোচন জরুরি। তাদেরকেও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, শুনেছি কিন্তু কীভাবে হলো জানি না।









