গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। সেই পোস্টের মন্তব্যে কড়া সমালোচনা করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন– ভিপি নুরুল হক নূরের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তার এই পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্যে লেখেন, ‘প্রতিবাদের কাজ আপনার? ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার। যেই জন্য বসানো হইছে সেটা না করে কী কী করছেন এসবের হিসাব দিতে হবে। কে কোথায় কিভাবে কোন কাজে বাধা দিছে এসব খবর আমাদের কাছে আছে। এসব প্রতিবাদের ভং না ধরে কাজটা করেন।’
এদিকে শুক্রবার রাতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে একজন উপদেষ্টা ১/১১ নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন। তখন অনেক রাজনীতিবিদ ও বিএনপির এক্টিভিস্টরা সেটা নিয়ে মশকরা করলো। অবশ্য আজকে জাতির সামনে স্পষ্ট হলো। ডিপস্টেট, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পুরনো লুটেরা স্টাবলিস্ট মিলে ২০০৮ মডেলে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। কারা সরকারি দল হবে আর কারা বিরোধী দল হবে সেটাও ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হবে।’
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে একই জায়গায় জাতীয় পার্টি ও গণপরিষদ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পরে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।
এদিকে, হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেখতে এসে ঢাকা মেডিকেলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরুল হক নুরকে দেখতে এসে এসে অবরুদ্ধ হন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করা না হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুল হাসপাতালে অবরুদ্ধ থাকবেন।
এসময় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মারতে মারতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে থেকে আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। তারা কোনো কথাই শোনেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অবরুদ্ধ থাকবেন। এসময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।







