মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা পোড়ালে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ আদেশ অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তি কোনো ধরনের আগাম মুক্তির সুবিধাও পাবেন না।
সোমবার (২৫ আগস্ট) এ শাস্তির কথা জানিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিন ধরে পতাকা পোড়ানোকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখছে এবং এটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত, তবুও ট্রাম্প এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, “যদি আপনি একটি পতাকা পোড়ান, তাহলে এক বছর জেল খাটতে হবে, কোনো ছাড় নেই। এটি তার রেকর্ডে থাকবে। আর তখনই পতাকা পোড়ানো বন্ধ হয়ে যাবে।”
এছাড়াও আদেশে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিক পতাকা পোড়ালে তার ভিসা বাতিল করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হবে, প্রয়োজনে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এ আদেশ নাগরিক অধিকার এবং স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়ে সংবিধানের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা করছেন।
‘ফায়ার’ নামক একটি বাক্স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন এক বিবৃতিতে জানায়, “ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, কলমের এক খোঁচায় সংবিধানের প্রথম সংশোধনী পরিবর্তন করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। সরকার কারো মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করতে পারে না। এমনকি প্রেসিডেন্টসহ দেশের অনেক নাগরিকের কাছে যদি সেটা ‘আপত্তিকর ও উসকানিমূলক’ মনে হয়, তবুও। ”
নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা পতাকা পোড়ানোর সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা’ গ্রহণ করতে।
সূত্র: আল-জাজিরা







